রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।

ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ ইতোমধ্যে ভারতের হাতে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি নথিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের দাবি।

এদিকে শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে দেশে ফেরার কথা বলেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেয়। এই রায়কে ভিত্তি করেই বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল—এই বিষয়টি আদালতে তোলা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা হলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে একজন অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে মনে করলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিষয় : ভারত শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।

ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ ইতোমধ্যে ভারতের হাতে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি নথিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের দাবি।

এদিকে শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে দেশে ফেরার কথা বলেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেয়। এই রায়কে ভিত্তি করেই বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল—এই বিষয়টি আদালতে তোলা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা হলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে একজন অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে মনে করলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার বিধানও রয়েছে।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
২৪/৭ লাইভ অডিও সম্প্রচার