সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর। এ কার্যক্রম চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের কোনো ভুল, অসম্পূর্ণতা কিংবা আগের রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকলে প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে। এ কারণে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন বিভাগে ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শিগগিরই অর্থ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা
নতুন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং তার চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর দায়িত্ব পালন করলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আগের বেতন কাঠামোয় টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বা পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, পুরোনো বেতন কাঠামোয় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এবার পে-ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি এবং পূর্বের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মতামত