সরকার ঘোষিত তেলের দাম বৃদ্ধির পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন রুটের বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাস কাউন্টারসহ কিছু অসাধু বাসচালক ও হেলপার যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া গ্যাসচালিত সিএনজি, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহনের ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। গ্যাসের মূল্য অপরিবর্তিত থাকার পরও ভাড়া বাড়ানোর ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপগঞ্জ একটি শিল্পনগরী এলাকা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে এখানে ছুটে আসেন। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে পুঁজি করে অনেক চালক ও হেলপার নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়ার কথা জানানো হলেও বাসে ওঠার পর অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই চালক-হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
শুধু বাস নয়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকায় গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। তারপরও কোনো কোনো চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রতিটি কাউন্টার ও যানবাহনে দৃশ্যমানভাবে টাঙিয়ে দেওয়া এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত চালক ও হেলপারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা জানান, আমরা যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তারা সবাই এই সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছি। ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়াও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
নেত্রকোনা যাওয়ার শেফালী আক্তার নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে জানান, “১২ হাজার টাকা বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনোরকমে সংসার চলে। অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাড়ি যেতে মন চাচ্ছে না।”
সিলেটগামী যাত্রী আব্দুর রউফ জানান, “লোকাল বাসে আগে ৫ থেকে ৬০০ টাকায় সিলেট যাওয়া যেত। এখন ভাড়া হচ্ছে ৭ থেকে ৮০০ টাকা। এভাবে যদি বাসের ভাড়া বাড়তে থাকে, যাতায়াত করাটাই সমস্যা হয়ে পড়বে।”
একই অভিযোগ সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী হেলাল উদ্দিনের। তিনি জানান, “চাকরির ফাঁকে মাসে একবার গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। যেভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, এখন আর মনে হয় না দুই মাসেও একবার যেতে পারব।”
কুমিল্লাগামী যাত্রী তানজিম হোসেন জানান, “রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে বেশিরভাগ মানুষই খেটে খাওয়া। আর এসব মানুষের চলাচলের মাধ্যম হলো গণপরিবহন। গণপরিবহনসহ সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করায় হতাশায় ভুগছে মানুষ।”
রূপগঞ্জের দূরপাল্লার যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভাড়া নিয়ে সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছেন। নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা কার্যক্রম চালু রাখলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হবে এবং যাত্রীরা সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল বিন শফিক বলেন, “সরকার প্রতি কিলোমিটারের জন্য যে মূল্যভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে, কেউ যদি এর চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মতামত