রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আসার পর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগপত্রে মিষ্টি জানান, সম্পূর্ণ সচেতনভাবে এবং স্বেচ্ছায় তিনি সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে যান ফেরদৌসী আহমেদ। সেখানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। এর কিছু সময় পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
স্পিকারের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ নিজেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পদত্যাগপত্রে এ বিষয়ে আর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি তিনি।
বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে এসব আসন দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাদের গেজেট প্রকাশ এবং ৩ মে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন মিষ্টি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের ওই কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। সে সময় রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষর ছিল।
মতামত