রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সিলেটে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেপ্তার



সিলেটে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেপ্তার
ছবি: এসআরবি-৯

সিলেট নগরের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯,সিপিএসসি, সিলেট। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী ও ভার্তখলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন;গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিমাদল গ্রামের মৃত সাথীর আলীর ছেলে আহমদ করিম (৩০) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ভার্তখলা এলাকার মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৮)।

এসআরবি-৯ সূত্র জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে কদমতলী বাস টার্মিনালসংলগ্ন মেসার্স ব্রাদার্স ইউনিয়ন ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালায় একটি দল। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে আহমদ করিমকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযানকারী দলের দাবি,করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ,Google ও Chrome-এর browsing history, WhatsApp-এ জুয়া সংক্রান্ত যোগাযোগ, টোকেন ও সিরিয়াল নম্বর আদান-প্রদান এবং bKash লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া Shillong Teer-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে করিম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেছে এসআরবি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী,কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় তিনি এজেন্ট হিসেবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ ও টোকেন সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাতেন। জুয়ার ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ীদের অর্থ প্রদানের সমন্বয়ও করতেন। এভাবে প্রতিটি লেনদেন থেকে কমিশন পেয়ে দৈনিক আনুমানিক ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ভার্তখলা এলাকায় নতুন রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায় একই দল। এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

এসআরবি জানায়,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ ও টোকেন বা সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করে মূল এজেন্টের কাছে পাঠাতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এসআরবি-৯-এর ভাষ্য অনুযায়ী,গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে Shillong Teer, SS02, com.g77plus.com ও Teer Today-সহ বিভিন্ন অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা কমিশনের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

এসআরবি আরও জানায়,কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় একাধিক এজেন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ,দোকানকর্মী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসআরবি-৯ জানিয়েছে,অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্ট,পরিচালনাকারী ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তথ্য যাচাই করে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চক্রের মূল পরিচালনাকারীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জনসাধারণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আহমদ করিম ও আলমগীর হোসেনকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সিলেটে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিলেট নগরের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯,সিপিএসসি, সিলেট। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী ও ভার্তখলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন;গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিমাদল গ্রামের মৃত সাথীর আলীর ছেলে আহমদ করিম (৩০) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ভার্তখলা এলাকার মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৮)।

এসআরবি-৯ সূত্র জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে কদমতলী বাস টার্মিনালসংলগ্ন মেসার্স ব্রাদার্স ইউনিয়ন ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালায় একটি দল। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে আহমদ করিমকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযানকারী দলের দাবি,করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ,Google ও Chrome-এর browsing history, WhatsApp-এ জুয়া সংক্রান্ত যোগাযোগ, টোকেন ও সিরিয়াল নম্বর আদান-প্রদান এবং bKash লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া Shillong Teer-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে করিম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেছে এসআরবি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী,কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় তিনি এজেন্ট হিসেবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ ও টোকেন সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাতেন। জুয়ার ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ীদের অর্থ প্রদানের সমন্বয়ও করতেন। এভাবে প্রতিটি লেনদেন থেকে কমিশন পেয়ে দৈনিক আনুমানিক ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ভার্তখলা এলাকায় নতুন রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায় একই দল। এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

এসআরবি জানায়,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ ও টোকেন বা সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করে মূল এজেন্টের কাছে পাঠাতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এসআরবি-৯-এর ভাষ্য অনুযায়ী,গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে Shillong Teer, SS02, com.g77plus.com ও Teer Today-সহ বিভিন্ন অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা কমিশনের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

এসআরবি আরও জানায়,কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় একাধিক এজেন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ,দোকানকর্মী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসআরবি-৯ জানিয়েছে,অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্ট,পরিচালনাকারী ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তথ্য যাচাই করে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চক্রের মূল পরিচালনাকারীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জনসাধারণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আহমদ করিম ও আলমগীর হোসেনকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream