চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলসহ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিং কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) অধীনে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মরত রয়েছেন তারা। দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও এখনো তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। কয়লাখনির জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি পারিবারিক কবরস্থান পর্যন্ত হারিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সালের ১৫ মে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির ৮ নম্বর ধারায় ক্ষতিগ্রস্তদের কয়লাখনিতে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা শিথিল করে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরং আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রেখে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর গণনিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে আবারও তাদের বঞ্চিত করে অবৈধভাবে বহিরাগতদের, অর্থাৎ বিসিএমসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, বিসিএমসিএলের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রামে অনেক স্থায়ী পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি স্থায়ীকরণের পরিবর্তে নতুন করে নিয়োগের মাধ্যমে ওই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
তাদের দাবি, গণনিয়োগ স্থগিত রেখে ২০০৯ সালের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব কর্মচারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি, তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও ঘোষণা দেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নিয়োগের দাবিতে ২০১৮ সালে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পক্ষে মো. সোহেল রানা হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে আন্দোলনকারীরা জানান। পরে বিসিএমসিএল ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি রিভিউ আবেদন করা হয়।
বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এখানে স্বজনপ্রীতি বা অন্য কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, যারা টার্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাই ভাইভা পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইভায় যারা যোগ্য প্রমাণিত হবেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা মানববন্ধন করছেন, তাদের কেউ টার্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। টার্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাদের নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের নয়।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মহাব্যবস্থাপক বলেন, নিয়োগে যদি স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকত, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে তার গাড়িচালক ও পিয়নকেও নিয়োগ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মতামত