ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তার অভিযোগ, জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেনি। বরং দলটির কিছু নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও গোপনে কাজ করেছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিএনপি তার সঙ্গে ‘মুনাফেকি’ করেছে।
জুনায়েদ আল হাবিবের ভাষ্য, সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এলাকায় ইসলামপন্থি দলগুলোরও প্রভাব রয়েছে। নির্বাচনের সময় বিএনপির একটি অংশ রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয় ছিল এবং অন্য একটি অংশ দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে জমিয়তের প্রার্থী প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে দাবি তার।
রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০ শতাংশ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন তিনি।
তার দাবি, নির্বাচনের দিন তার জয়ের সম্ভাবনা ছিল এমন কয়েকটি কেন্দ্র থেকে জমিয়তের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এতে ভোটের মাঠে তার প্রার্থীতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে জোটের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জমিয়তের এই নেতা। তিনি বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে। দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জুনায়েদ আল হাবিবের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তরিকভাবে জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে বিজয় সম্ভব ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ দিকে বিএনপি সেই ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ তার।
এদিকে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়েও কথা বলেন জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট থেকেও বেরিয়ে আসতে প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
মতামত