মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ের একটি বাড়ির আঙিনা থেকে ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিরাজনগর লামুয়া এলাকায় কদর আলী মেম্বারের বাড়ির আঙিনায় সাপটি দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চাউতলি বিট কর্মকর্তা সুব্রত সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রধানত বার্মিজ অজগর যার বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus,দেখা যায়। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রক পাইথন (Python molurus)-ও পাওয়া যায়। শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের চা-বাগান ও লোকালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া অজগরের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তিনি বলেন,অজগরের শরীরে হালকা বাদামি বা ছাই রঙের ওপর গাঢ় বাদামি কিংবা চকোলেট রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। মাথার ওপর তীরের ফলার মতো বা ‘V’ আকৃতির বিশেষ চিহ্নও দেখা যায়। শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক অজগরের ওজন সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, অজগর মূলত ওত পেতে শিকার করা প্রাণী। শিকারকে কামড়ে ধরে শক্তিশালী শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করার পর পুরোটা গিলে খায়। এরা বিষহীন এবং সাধারণত শান্ত প্রকৃতির। প্ররোচিত বা আক্রান্ত না হলে অজগর সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।
তিনি আরও বলেন,বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং খাদ্যের সংকট দেখা দিলে অজগর প্রায়ই চা-বাগান, খামার কিংবা মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসে। উদ্ধার হওয়া অজগরটির ওজন ২৩ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট।
মতামত