শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

শ্রীমঙ্গলে বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার


সত্যজিৎ দাস
সত্যজিৎ দাস
| ফটো কার্ড

শ্রীমঙ্গলে বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার
বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশে অত্যন্ত দুর্লভ ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বা ‘সাইবোল্ডের পান্না সাপ’-এর একটি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকায় সাপটির সন্ধান পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় লোকজন সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আটক করে নিরাপদ স্থানে রাখেন। পরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল কবীর বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।

সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান,মনিরুল খান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পর সাপটিকে ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বলে শনাক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান,সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেকের বৈজ্ঞানিক নাম Ferania sieboldii। এটি হোমালপসিডে (Homalopsidae) পরিবারের একটি অত্যন্ত দুর্লভ জলচর সাপ। বাংলাদেশে খুব কমই এ প্রজাতির দেখা মেলে। দেশের বিভিন্ন জলাভূমি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন,সাপটি মূলত গোধূলি ও সন্ধ্যার সময় বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা জলাশয়ের তলদেশের কাদা বা মাটির নিচে শরীর লুকিয়ে রাখতে পারে। এদের শরীর তুলনামূলক মোটা এবং পিঠে কালচে বা ধূসর-বাদামি রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। জলজ পরিবেশে অভিযোজিত এই সাপের নাসারন্ধ্র মাথার ওপরের দিকে অবস্থান করে।

আদনান আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক প্রধানত ছোট মাছ ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন উভচর প্রাণী খেয়ে থাকে। এটি পেছনের দাঁতে অল্প বিষযুক্ত, অর্থাৎ মৃদু বিষধর সাপ। সাধারণত মানুষের জন্য এটি মারাত্মক বিপজ্জনক নয়। তবে বিরক্ত বা হুমকি মনে করলে আত্মরক্ষার্থে কামড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ দেখলে না ধরার এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার করা সাপটি বর্তমানে গবেষণার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এর স্থানীয় আচরণ,বিস্তৃতি ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও গবেষণা করা হবে।

পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,বিরল এই প্রজাতির সাপ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো সাপ দেখতে পেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা বা ধরে ফেলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


শ্রীমঙ্গলে বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশে অত্যন্ত দুর্লভ ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বা ‘সাইবোল্ডের পান্না সাপ’-এর একটি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকায় সাপটির সন্ধান পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় লোকজন সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আটক করে নিরাপদ স্থানে রাখেন। পরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল কবীর বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।

সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান,মনিরুল খান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পর সাপটিকে ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বলে শনাক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান,সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেকের বৈজ্ঞানিক নাম Ferania sieboldii। এটি হোমালপসিডে (Homalopsidae) পরিবারের একটি অত্যন্ত দুর্লভ জলচর সাপ। বাংলাদেশে খুব কমই এ প্রজাতির দেখা মেলে। দেশের বিভিন্ন জলাভূমি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন,সাপটি মূলত গোধূলি ও সন্ধ্যার সময় বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা জলাশয়ের তলদেশের কাদা বা মাটির নিচে শরীর লুকিয়ে রাখতে পারে। এদের শরীর তুলনামূলক মোটা এবং পিঠে কালচে বা ধূসর-বাদামি রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। জলজ পরিবেশে অভিযোজিত এই সাপের নাসারন্ধ্র মাথার ওপরের দিকে অবস্থান করে।

আদনান আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক প্রধানত ছোট মাছ ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন উভচর প্রাণী খেয়ে থাকে। এটি পেছনের দাঁতে অল্প বিষযুক্ত, অর্থাৎ মৃদু বিষধর সাপ। সাধারণত মানুষের জন্য এটি মারাত্মক বিপজ্জনক নয়। তবে বিরক্ত বা হুমকি মনে করলে আত্মরক্ষার্থে কামড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ দেখলে না ধরার এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার করা সাপটি বর্তমানে গবেষণার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এর স্থানীয় আচরণ,বিস্তৃতি ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও গবেষণা করা হবে।

পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,বিরল এই প্রজাতির সাপ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো সাপ দেখতে পেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা বা ধরে ফেলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream