বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক বিষয় নিয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা পৃথকভাবে তিনটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়। পরে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সাথে এবং শেষে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সাথে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পৃথকভাবে তিন সভাতে উপাচার্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকেরা জানান, উপাচার্যের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা উদঘাটন, পরিকল্পনা নিরূপণ ও সমস্যার সমাধানে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাজ করে যাবে বলে জানান তারা।
শিক্ষকদের সাথে সভায় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সৌন্দর্যের মধ্যে নয়। এর মূল শক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিটি মানুষের মেধা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সততার সমবেত প্রচেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। তাই বাকৃবিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বাকৃবির ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা থেকে একটু দূরে থাকাতে আমরা সুযোগ একটু কম পাই। যারা ঢাকায় আশেপাশে থাকে, তারা সুযোগ বেশি পায়। সেজন্য আমাদের এদিকে একটু খেয়াল রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন। এত গবেষণা বাংলাদেশের কোথাও হয় না। এত মাস্টার্স, পিএইচডি বাংলাদেশের কোনো ভার্সিটিতে হয় না। এটা আমাদের একটা বড় একটা অর্জন এবং সুযোগ। এই সুয়োগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশৃঙ্খল, সৎ ও দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব নেই। আমি তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করতে চাই। তবে কেউ যদি মনের অজান্তে নিজেকে কোনো ভুল পথে পরিচালিত করে থাকেন, তাঁরা নিজের দুর্বলতাগুলো দূর করে নিজেদের খাঁটি মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করবেন। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে ন্যায়নীতির ওপর প্রস্তুত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করে যেন আমাদের প্রতিটি ঐতিহ্য আরও গৌরবময় ইতিহাসে রূপান্তর করতে পারি।
মতামত