ছিনতাই থেকে খুন—অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা, বাড়ছে উদ্বেগ
সিলেট নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ছিনতাই, মারামারি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডেও কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
গত ২৭ জুলাই সিলেট নগরের কাজিরবাজার সেতু এলাকায় ফুটবল খেলা শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাতে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্র রিফাত আহমদ নিহত হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হয়। স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঘটনাটির সঙ্গে কিশোরদের একটি দলের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। ঘটনার ২০ দিন পরও মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে সিলেট নগরের বাগবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা নগরের বিভিন্ন ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সিলেট মহানগর পুলিশও অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। গত জুলাইয়ে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
আগস্টের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হবে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি জোরদারের কথাও জানান তিনি।
মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ
সিলেটে কিশোরদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ছাত্র প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানান।
সচেতন নাগরিকদের মতে, কিশোর অপরাধ দমনে শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের অবসর কাটানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদক ও অপরাধী চক্রের প্রভাব থেকে তাদের দূরে রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কিশোরদের একটি অংশের হাতে যখন সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ উঠছে, তখন বিষয়টি কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সামাজিক কারণগুলোও খুঁজে বের করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না গেলে ছোটখাটো বিরোধ থেকে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
মতামত