দক্ষিণ স্পেনের ঐতিহাসিক শহর গ্রানাদায় ৪ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের প্রভাবে বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে গ্রানাদার প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে আলহেন্দিন এলাকার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। স্পেনের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের (আইজিএন) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটারেরও কম।
কম্পনের সময় বিভিন্ন ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের কয়েকটি জাদুঘর, প্রশাসনিক ভবন ও ক্রীড়া কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য শক্তিশালী পরাঘাতের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
আইজিএন জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে গ্রানাদা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অগভীর ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবারের কম্পন ছিল ওই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ঘটনা এবং এটি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে গ্রানাদার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ আলহামব্রা প্রাসাদও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যযুগীয় ইসলামী স্থাপত্যের এই বিখ্যাত নিদর্শনটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এটি দেখতে আসেন।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে গ্রানাদা মেট্রো কর্তৃপক্ষ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে সীমিত করেছে। এর ফলে মেট্রো চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সম্ভাব্য পরাঘাতের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রানাদায় ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ৩
মতামত