মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে উপজেলার বিরাহিমপুর এলাকার জোড়াপুলসংলগ্ন একটি গলিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নিতেশ্বর এলাকার রাসেল মিয়া (২৬),হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কড়ানগর এলাকার সোহেল মিয়া (২৩), শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা এলাকার জুয়েল মিয়া (২৮) ও সিন্দুরখাঁন রোড এলাকার রাসেল আহমেদ (৩০)।
পুলিশ জানায়,রাতের কিলো ডিউটির সময় তাদের কাছে খবর আসে,একটি প্রাইভেটকারে করে ৪-৫ জন ব্যক্তি বিরাহিমপুরের জোড়াপুলসংলগ্ন গলিতে এসে আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবর পেয়ে এসআই দীপংকর হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাইভেটকারটির সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাইরে থাকা ৩-৪ জন সহযোগী পালিয়ে গেলেও গাড়ির ভেতর থাকা চারজনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি সুইস গিয়ার চাকু,কাঠের হাতলযুক্ত একটি ধারালো চাকু,একটি লোহার শাবল,একটি স্টার স্ক্রু-ড্রাইভার ও একটি ফ্ল্যাট স্ক্রু-ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-১৭৯৫ নম্বরের কালো রঙের একটি টয়োটা এলিয়ন প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কলেজ রোড এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের সিডিএমএস যাচাই অনুযায়ী,গ্রেপ্তার রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি,মাদক ও নারী-শিশু নির্যাতন আইনে পাঁচটি মামলা এবং সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করেছে। পালিয়ে যাওয়া সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতামত