সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১১৫ জন। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ছয় মাসের এক শিশুও রয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ১৮ আগস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৯৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিলেটে ৩২০,হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৫, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১,ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০,রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচ, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬,হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ছয়জন ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন হবিগঞ্জের তাসমিন। তার বয়স ছিল ছয় মাস আট দিন। অপর শিশুটির বাড়ি বিশ্বনাথে এবং বয়স নয় মাস।
হাম পরিস্থিতিতে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৮, হবিগঞ্জে ১৮,মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫৪ জন। পাশাপাশি নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেটে চার,মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজন।
সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে,নতুন আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে এক দিনে ১১৫ জন সন্দেহজনক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি তুলে ধরছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নতুন করে ১২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে মৌলভীবাজারে ছয়জন ও হবিগঞ্জে ১০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় শিশুদের সুরক্ষা,দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মতামত