আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও দীর্ঘ ১ যুগ ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কুমিল্লা নগরীর সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র। মারধর, চাঁদাবাজি, ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনতাই থেকে শুরু করে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার—সব ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এ তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন শুভ্র। আদালত কোতোয়ালি মডেল থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগেও অনলাইন জিডি ও সাইবার অপরাধের বিষয়ে বিচারিক আদালতের নির্দেশে নন-এফআইআর মামলা ও তদন্তের নির্দেশ জারি করা হয়। শুভ্রর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিবি ও র্যাবকে দেওয়া স্মারকলিপি এবং অনলাইনে তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের স্ক্রিনশট (অস্পষ্ট করে)।
মামলা দায়েরের পরও থামেনি হয়রানি। অভিযোগ উঠেছে—মামলা প্রত্যাহারের জন্য শুভ্র ও তাঁর পরিচিতজনদের ওপর আসছে ভয়ভীতি, হুমকি ও প্রলোভন। এমনকি মোবাইল ক্লোনিং, হ্যাকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন ‘মানবাধিকার খবর’-এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন। তিনি জানান, একজন সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীর সাথে ঘটে যাওয়া এসব পরিকল্পিত অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনজীবীদের মতে, অপরাধীদের তিনটি শ্রেণীতে বিন্যাস করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করা জরুরি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, সাংবাদিক শুভ্রর দায়ের করা মামলা ও জিডির ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র ও তাঁর পরিবারের দ্রুততম সময়ে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মতামত