বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

স্বর্ণের দাম আরও কমবে, নাকি বাড়বে?


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

স্বর্ণের দাম আরও কমবে, নাকি বাড়বে?
ছবি: সংগৃহীত

বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা দিয়েছে। এতে মূল্যবান ধাতুটির দাম সামনে আরও কমবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অথচ গত ২৮ জানুয়ারি একই পরিমাণ স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০২ ডলারে উঠেছিল। বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় দুই লাখ টাকার কাছাকাছি।

দেশের বাজারেও চলতি বছর স্বর্ণের দামে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘরে নেমে এসেছিল। তবে বুধবার সেই দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের মূল্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে সাধারণত সুদ পাওয়া যায় না এমন স্বর্ণের মতো সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। এর প্রভাবে দাম কমার চাপ তৈরি হয়। বিপরীতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বাড়ার সুযোগ থাকে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে তাদের স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, ডলারের গ্রহণযোগ্যতায় পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিয়মিত ওঠানামা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে গড়ে প্রায় এক হাজার টন স্বর্ণ কিনেছে। এর আগের দশকে এই গড় ছিল প্রায় ৫০০ টন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এ ধরনের ক্রয় অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে সুদের হার, তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বিষয়গুলো স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান হাবীবের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লে ব্যক্তি ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে সামনে স্বর্ণের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বর্ণের দাম আরও কমবে, নাকি বাড়বে?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা দিয়েছে। এতে মূল্যবান ধাতুটির দাম সামনে আরও কমবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অথচ গত ২৮ জানুয়ারি একই পরিমাণ স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০২ ডলারে উঠেছিল। বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় দুই লাখ টাকার কাছাকাছি।

দেশের বাজারেও চলতি বছর স্বর্ণের দামে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘরে নেমে এসেছিল। তবে বুধবার সেই দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের মূল্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে সাধারণত সুদ পাওয়া যায় না এমন স্বর্ণের মতো সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। এর প্রভাবে দাম কমার চাপ তৈরি হয়। বিপরীতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বাড়ার সুযোগ থাকে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে তাদের স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, ডলারের গ্রহণযোগ্যতায় পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিয়মিত ওঠানামা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে গড়ে প্রায় এক হাজার টন স্বর্ণ কিনেছে। এর আগের দশকে এই গড় ছিল প্রায় ৫০০ টন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এ ধরনের ক্রয় অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে সুদের হার, তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বিষয়গুলো স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান হাবীবের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লে ব্যক্তি ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে সামনে স্বর্ণের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream