খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার গুইমারা ইউনিয়নের জমাদার পাড়ায় সুস্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রান্না প্রদর্শনী ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নারীসহ কমিউনিটির বিভিন্ন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
“অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুইমারা উপজেলার সমন্বয়কারী অরুন জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. সুফি মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন।
সেশন পরিচালনা করেন কমিউনিটি নিউট্রিশন প্রমোটার মাতু মারমা ও চাইওয়াপ্রু মারমা। উঠান বৈঠকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সুফি মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন বলেন, “সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন হতে হবে।”
রান্না প্রদর্শনীতে মাংস, কলিজা, সয়াবিন, শিমের বিচিসহ স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে খাবার তৈরির পদ্ধতি ও এসব খাবারের পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এসব পুষ্টিকর খাবার কীভাবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিশু ও মায়েদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কেও স্থানীয়দের অবহিত করা হয়। সরকারি এসব সুবিধা ও সেবা যথাযথভাবে গ্রহণে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মনোয়ারা বেগম বলেন, “রান্না প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে শিশু ও মায়েদের জন্য কীভাবে পুষ্টিকর খাবার রান্না করতে হয়, সে বিষয়ে আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এ ধরনের আয়োজনের জন্য জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জানাই। গ্রামের পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।”
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মতামত