বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই, নজরদারির অভাব



ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই, নজরদারির অভাব
ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই, নজরদারির অভাব

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পশু চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গরু জবাই করা হচ্ছে। কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে পশু জবাই হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। সেই সঙ্গে মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও প্রচলিত কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫টি গরু জবাই হয়। উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, "আমরা নিয়মিত দুলালপুর বাজার থেকে মাংস কিনি। কিন্তু এই গরুগুলো সুস্থ কি না বা নিয়ম মেনে জবাই করা হচ্ছে কি না, তা কখনো খতিয়ে দেখা হয়নি। বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি থাকলে আমরা নিশ্চিতভাবে হালাল ও নিরাপদ মাংস পেতে পারি।"

​অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পশুর পূর্ণাঙ্গ জীবন বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানোর কাজ শুরু করা হয়। দক্ষিণ চান্দলা গ্রামের আজাদ মিয়া জানান, "মাঝে মধ্যে দেখি কসাইরা নিজ হাতেই গরু জবাই করে। কোনো ধর্মীয় ব্যক্তি তো দূরের কথা, গরুটির সম্পূর্ণ প্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার ধৈর্যও তাদের থাকে না।"

​নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কসাই স্বীকার করেন, উপজেলায় প্রতিদিন প্রচুর গরু জবাই হলেও সিংহভাগ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। হাতে গোনা কয়েকজন বিক্রেতা সুস্থ গরু এনে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মাংস বিক্রি করেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, "আমার দায়িত্ব মূলত পশু জবাইয়ের পর তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে কি না তা দেখা। আর পশু সুস্থ কি না, তা পরীক্ষার দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ বিভাগের।" তিনি দ্রুত এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।

​জনবলসংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, "সীমিত জনবলের কারণে প্রতিদিন নিবিড়ভাবে বাজার তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫ জন মাংস বিক্রেতাকে ডেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সামনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে।"

​বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করা হলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই, নজরদারির অভাব

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পশু চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গরু জবাই করা হচ্ছে। কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে পশু জবাই হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। সেই সঙ্গে মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও প্রচলিত কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫টি গরু জবাই হয়। উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, "আমরা নিয়মিত দুলালপুর বাজার থেকে মাংস কিনি। কিন্তু এই গরুগুলো সুস্থ কি না বা নিয়ম মেনে জবাই করা হচ্ছে কি না, তা কখনো খতিয়ে দেখা হয়নি। বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি থাকলে আমরা নিশ্চিতভাবে হালাল ও নিরাপদ মাংস পেতে পারি।"

​অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পশুর পূর্ণাঙ্গ জীবন বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানোর কাজ শুরু করা হয়। দক্ষিণ চান্দলা গ্রামের আজাদ মিয়া জানান, "মাঝে মধ্যে দেখি কসাইরা নিজ হাতেই গরু জবাই করে। কোনো ধর্মীয় ব্যক্তি তো দূরের কথা, গরুটির সম্পূর্ণ প্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার ধৈর্যও তাদের থাকে না।"

​নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কসাই স্বীকার করেন, উপজেলায় প্রতিদিন প্রচুর গরু জবাই হলেও সিংহভাগ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। হাতে গোনা কয়েকজন বিক্রেতা সুস্থ গরু এনে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মাংস বিক্রি করেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, "আমার দায়িত্ব মূলত পশু জবাইয়ের পর তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে কি না তা দেখা। আর পশু সুস্থ কি না, তা পরীক্ষার দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ বিভাগের।" তিনি দ্রুত এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।

​জনবলসংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, "সীমিত জনবলের কারণে প্রতিদিন নিবিড়ভাবে বাজার তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫ জন মাংস বিক্রেতাকে ডেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সামনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে।"

​বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করা হলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream