বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অন্তত ৬০০ জনকে ধর্ষণ-বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা মহিলা দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দলীয় এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
বিএনপি নেতা আবু জাহিদ ডাবলু বলেন,“সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে জামায়াতে ইসলামী অন্তত ৬০০ জনকে ধর্ষণ করেছে। এটা প্রমাণিত। ৬০০-এর অধিক মাদ্রাসা ও অন্যান্য পুরুষকে বলাৎকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এটা সত্য। আমার কাছে ডকুমেন্টস আছে, প্রমাণ আছে, যেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন,“দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম চলছে, তাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ত্যাগ অনন্য। শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনাকে বুকে ধারণ করে আগামী দিনেও সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর দেওয়া বক্তব্য ঘিরে চলছে নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ ব্ক্তবের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখা। বিবৃতিতে জেলা বিএনপি নেতা আবু জাহিদ ডাবলুর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৯ সেপ্টম্বর) রাতে পাঠানো এক প্রতিবাদ বার্তায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।” তিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মঞ্চে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান।
মতামত