বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি সবসময়ই বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যে সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত—আর তা হলো ভাষা ও আচরণের পারিবারিক শালীনতা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—কাউকে কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে কুৎসিত বা কটু ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। বেগম খালেদা জিয়া প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করলেও তাঁর ভাষার ভেতরে উচ্চমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও বিনয় প্রকাশ পেত। এই ঐতিহ্য ও শালীন ভাষার কারণেই সাধারণ মানুষ বিএনপিকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা হিসেবে সম্মান করে এসেছে।
তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান কর্তৃক জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ প্রয়োগের ঘটনায় নাগরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনীতিতে ভুল বক্তব্য বা আবেগের বশবর্তী হয়ে মন্তব্য করা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু যখন তা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখ থেকে আসে, তখন তা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দেয়। লেখক ও সচেতন সমাজের মতে, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেমতপার্থক্য থাকলেও কোনো অবস্থাতেই অশালীন শব্দ বা গালিগালাজ সমর্থনযোগ্য নয়। এমন আচরণে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক ইমেজ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং দলের দায়িত্বশীল সমর্থক মহল স্পষ্টভাবে মনে করেন, রাশেদ খানের এই মন্তব্যের জন্য তাঁর নিজের ভুল স্বীকার করে অবিলম্বে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়, কিন্তু ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করাই হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদের প্রকৃত শালীনতার পরিচয়।
যদি তিনি নিজ থেকে ক্ষমা না চান, তবে দেশের সচেতন জনসাধারণ ও নাগরিক সমাজ এর প্রতিবাদ জানাবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক শিষ্টাচারের ঐতিহ্য রক্ষা করতে যেকোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যের ক্ষেত্রে সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক থাকা জরুরি।
মতামত