বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ডিজিটাল স্লোগান বনাম বাস্তব চিত্র: কেন যুগের পর যুগ পিছিয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার?


আনোয়ার আলমগীর
আনোয়ার আলমগীর
| ফটো কার্ড

ডিজিটাল স্লোগান বনাম বাস্তব চিত্র: কেন যুগের পর যুগ পিছিয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার?
প্রতীকি ছবি

​'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কথা আমরা হরহামেশাই শুনি, অথচ দেশের পুঁজিবাজারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী পা রাখলেই টের পান বাস্তবতার কঙ্কালসার রূপ। প্রতিনিয়ত অ্যাপ হ্যাং করা বা প্রযুক্তিগত বিভ্রাট কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়; এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা গভীর কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।  

​কেন এতদিনেও ঠিক হচ্ছে না বাংলাদেশের শেয়ার বাজার? সমস্যাগুলো আসলে কোথায়?  

​দুর্বল ও জরাজীর্ণ আইটি অবকাঠামো: ডিএসই (DSE)-র সার্ভার ডাউন হওয়া বা সফটওয়্যার জটিলতা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কোটি কোটি টাকার লেনদেন যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়, তার প্রযুক্তিগত মান বিশ্বমানের তো দূরের কথা, সাধারণ অ্যাপের চেয়েও ধীরগতির। অথচ বহু আগে ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ ও বিদেশি কৌশলগত অংশীদারদের যুক্ত করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন থমকে আছে।  

​পুঁজিবাজারের প্রতি পলিসি মেকারদের অবহেলা: ব্যাংকনির্ভর ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে শিল্প খাত বা বড় বড় প্রজেক্ট কখনোই শেয়ার বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত হয় না। ফলে বাজারটি অর্থায়নের মূল হাতিয়ার না হয়ে স্রেফ একটি সেকেন্ডারি কেনাবেচার জায়গায় পরিণত হয়েছে।  

​ভালো কোম্পানির তীব্র অভাব (আইপিও খরা): বাজারে বছরের পর বছর ধরে ভালো ও মৌলিকভাবে শক্তিশালী (Fundamentally Strong) মাল্টিন্যাশনাল বা স্বনামধন্য দেশীয় কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার (IPO) আসা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে কীভাবে?  

​কারসাজি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা: শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে ওঠানামা করানো এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকিয়েছে।

​ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উদাসীনতা: অনেক ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইউজার-ফ্রেন্ডলি অ্যাপ বা দ্রুতগতির এপিআই (API) সুবিধা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।

কারিগরি সমস্যা হলে সময়মতো সাপোর্ট দেওয়ার মতো দক্ষ জনবলও তাদের নেই।  

​শেয়ার বাজার কেবল কয়েকজন ট্রেডারের জুয়া খেলার জায়গা নয়; এটি যেকোনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। খালি মুখে 'স্মার্ট' না বলে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) ও এক্সচেঞ্জগুলোর উচিত অবিলম্বে আধুনিক ও শক্তিশালী আইটি অবকাঠামো নিশ্চিত করা, ভালো কোম্পানি বাজারে আনা এবং বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করা। সাধারণ বিনিয়োগকারীর ঘাম ঝরানো টাকা আর প্রযুক্তির বলি  না হন!

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিজিটাল স্লোগান বনাম বাস্তব চিত্র: কেন যুগের পর যুগ পিছিয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার?

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কথা আমরা হরহামেশাই শুনি, অথচ দেশের পুঁজিবাজারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী পা রাখলেই টের পান বাস্তবতার কঙ্কালসার রূপ। প্রতিনিয়ত অ্যাপ হ্যাং করা বা প্রযুক্তিগত বিভ্রাট কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়; এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা গভীর কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।  

​কেন এতদিনেও ঠিক হচ্ছে না বাংলাদেশের শেয়ার বাজার? সমস্যাগুলো আসলে কোথায়?  

​দুর্বল ও জরাজীর্ণ আইটি অবকাঠামো: ডিএসই (DSE)-র সার্ভার ডাউন হওয়া বা সফটওয়্যার জটিলতা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কোটি কোটি টাকার লেনদেন যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়, তার প্রযুক্তিগত মান বিশ্বমানের তো দূরের কথা, সাধারণ অ্যাপের চেয়েও ধীরগতির। অথচ বহু আগে ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ ও বিদেশি কৌশলগত অংশীদারদের যুক্ত করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন থমকে আছে।  

​পুঁজিবাজারের প্রতি পলিসি মেকারদের অবহেলা: ব্যাংকনির্ভর ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে শিল্প খাত বা বড় বড় প্রজেক্ট কখনোই শেয়ার বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত হয় না। ফলে বাজারটি অর্থায়নের মূল হাতিয়ার না হয়ে স্রেফ একটি সেকেন্ডারি কেনাবেচার জায়গায় পরিণত হয়েছে।  

​ভালো কোম্পানির তীব্র অভাব (আইপিও খরা): বাজারে বছরের পর বছর ধরে ভালো ও মৌলিকভাবে শক্তিশালী (Fundamentally Strong) মাল্টিন্যাশনাল বা স্বনামধন্য দেশীয় কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার (IPO) আসা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে কীভাবে?  

​কারসাজি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা: শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে ওঠানামা করানো এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকিয়েছে।

​ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উদাসীনতা: অনেক ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইউজার-ফ্রেন্ডলি অ্যাপ বা দ্রুতগতির এপিআই (API) সুবিধা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।

কারিগরি সমস্যা হলে সময়মতো সাপোর্ট দেওয়ার মতো দক্ষ জনবলও তাদের নেই।  

​শেয়ার বাজার কেবল কয়েকজন ট্রেডারের জুয়া খেলার জায়গা নয়; এটি যেকোনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। খালি মুখে 'স্মার্ট' না বলে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) ও এক্সচেঞ্জগুলোর উচিত অবিলম্বে আধুনিক ও শক্তিশালী আইটি অবকাঠামো নিশ্চিত করা, ভালো কোম্পানি বাজারে আনা এবং বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করা। সাধারণ বিনিয়োগকারীর ঘাম ঝরানো টাকা আর প্রযুক্তির বলি  না হন!


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream