সম্প্রতি অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করছেন—আমি কেন বিএনপি সরকারের বা তাদের কার্যক্রমের ইতিবাচক দিকগুলোর কথা বলছি, কিন্তু তাদের নীতিগত জায়গাগুলো নিয়ে কোনো সমালোচনা করছি না? আজকের বাস্তবতা অনুভব করে বিএনপিকে নিয়ে দুটি কথা না লিখে পারলাম না।
ক্ষমতা বা রাজনীতিতে যেকোনো দলের সাফল্যের পাশাপাশি তাদের ব্যর্থতাগুলোও চিহ্নিত করা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির কিছু জায়গায় দৃশ্যমান ব্যর্থতা ফুটে উঠছে, যা জনগণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে:
অর্থপাচার ও ব্যাংক লুটেরাদের তালিকা প্রকাশে ব্যর্থতা: বিএনপির অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হলো—বিগত সময়ে যারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং ব্যাংক খাত ধ্বংস করেছে, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক তালিকা তারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা লুট হয়েছে, কার কত টাকার অবৈধ সম্পদ ছিল এবং তারা কীভাবে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছে—এমন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা তাদের দায়িত্ব ছিল। গত ছয় মাস ধরে তারা এই বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে আসার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে স্পষ্ট রূপরেখার অভাব: বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এই সংকট কেন হচ্ছে, এর পেছনে মূল কারণ কী এবং কীভাবে তা সমাধান সম্ভব—তা সহজ ভাষায় জনগণকে বুঝিয়ে বলতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কেবল সংবাদপত্র বা সংবাদের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে না থেকে বিএনপিকে নিজেদের তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জনগণকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া উচিত ছিল।
তবে এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির একটি ভালো অবস্থান তৈরি করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। দেশের মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি অবিলম্বে ৩টি বড় পদক্ষেপ নিতে পারে:
১. ১৯৭১ ও ২০২৪-এর আহত-নিহতদের সঠিক তালিকা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন এবং কারা রাজাকার ছিলেন—তাদের একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক আন্দোলনে কতজন সাধারণ মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতির সামনে পেশ করা।
২. প্রত্যক্ষ স্মৃতিকথা সংগ্রহ: ১৯৭১ সালের শহীদ ও আহতদের অনেক আত্মীয়-স্বজন এখনো জীবিত আছেন। তাদের কাছ থেকে সরাসরি সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক ইতিহাস নথিবদ্ধ করা এখনো সম্ভব।
৩. স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থান: কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে মেধা ও তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সত্য ইতিহাস ও অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরা।
বিপুল জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল। তাই জনগণের কাছে নিজেদের কার্যকারিতা ও সততা প্রমাণ করতে হলে সমালোচনা এড়িয়ে না গিয়ে, এই দায়িত্বগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তাদের বাস্তবায়ন করা উচিত।
মতামত