শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও আশপাশের শিল্পকারখানায় ভোলার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে সিএনজি আকারে ট্যাংকারে করে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০টি শিল্পকারখানায় এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফিউলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার গ্যাস সিএনজিতে রূপান্তর করে বিশেষ ট্যাংকারে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। পরে সেখানে ডিকম্প্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি কাভার্ড ট্যাংকার ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ট্যাংকারের স্বল্পতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনো সেই পরিমাণ গ্যাস পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রতিদিন ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়ায় গ্যাস পরিবহন করা হচ্ছে।

ইন্ট্রাকোর দাবি, বর্তমানে তাদের ৩৪টি কাভার্ড ট্যাংকার গ্যাস পরিবহন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি ট্যাংকার ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকায় যায় এবং গ্যাস খালাসের পর আবার ফিরে আসে। তবে স্থানীয় গ্যাস আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, ভোলা থেকে গ্যাস নেওয়ার পরিমাণ সম্প্রতি বাড়ানো হলেও স্থানীয় মানুষের আবাসিক গ্যাস সংযোগের দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

ইন্ট্রাকোর তথ্য অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস বর্তমানে এসিআই সল্ট, আকিজ টেক্সটাইল, স্কয়ার নিট কম্পোজিট, ফকির ফ্যাশন, এনজেড গ্রুপ, বেক্সিমকো, গোমতি টেক্সটাইল, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস, আরকে নিট ও প্রতীক সিরামিকসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন করে আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠান এই গ্যাস নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ১৭ টাকায় কিনে শিল্পকারখানার কাছে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ভোলার গ্যাস পরিবহন ও সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চুক্তির শর্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এই চুক্তিকে অসম বলে দাবি করেছে।

এদিকে গ্যাসভর্তি ট্যাংকার পরিবহনেও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন যাত্রীবাহী ফেরিতে একাধিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভোলা থেকে পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইন্ট্রাকোর দাবি, তাদের ব্যবহৃত ট্যাংকারগুলো বিস্ফোরক আইনের আওতায় অনুমোদিত এবং এসব যানেই গ্যাস পরিবহনের বৈধ সনদ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে ঢাকার শিল্পকারখানায় ভোলার আরও বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঢাকার শিল্পকারখানায় বাড়ছে ভোলার গ্যাসের চাহিদা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা ও আশপাশের শিল্পকারখানায় ভোলার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে সিএনজি আকারে ট্যাংকারে করে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০টি শিল্পকারখানায় এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফিউলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার গ্যাস সিএনজিতে রূপান্তর করে বিশেষ ট্যাংকারে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। পরে সেখানে ডিকম্প্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি কাভার্ড ট্যাংকার ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ট্যাংকারের স্বল্পতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনো সেই পরিমাণ গ্যাস পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রতিদিন ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়ায় গ্যাস পরিবহন করা হচ্ছে।

ইন্ট্রাকোর দাবি, বর্তমানে তাদের ৩৪টি কাভার্ড ট্যাংকার গ্যাস পরিবহন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭টি ট্যাংকার ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকায় যায় এবং গ্যাস খালাসের পর আবার ফিরে আসে। তবে স্থানীয় গ্যাস আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, ভোলা থেকে গ্যাস নেওয়ার পরিমাণ সম্প্রতি বাড়ানো হলেও স্থানীয় মানুষের আবাসিক গ্যাস সংযোগের দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

ইন্ট্রাকোর তথ্য অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস বর্তমানে এসিআই সল্ট, আকিজ টেক্সটাইল, স্কয়ার নিট কম্পোজিট, ফকির ফ্যাশন, এনজেড গ্রুপ, বেক্সিমকো, গোমতি টেক্সটাইল, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস, আরকে নিট ও প্রতীক সিরামিকসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন করে আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠান এই গ্যাস নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ১৭ টাকায় কিনে শিল্পকারখানার কাছে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ভোলার গ্যাস পরিবহন ও সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চুক্তির শর্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এই চুক্তিকে অসম বলে দাবি করেছে।

এদিকে গ্যাসভর্তি ট্যাংকার পরিবহনেও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন যাত্রীবাহী ফেরিতে একাধিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভোলা থেকে পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইন্ট্রাকোর দাবি, তাদের ব্যবহৃত ট্যাংকারগুলো বিস্ফোরক আইনের আওতায় অনুমোদিত এবং এসব যানেই গ্যাস পরিবহনের বৈধ সনদ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে ঢাকার শিল্পকারখানায় ভোলার আরও বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream