বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

হাম আতঙ্কে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ,হাসপাতালে রোগীর চাপ


সত্যজিৎ দাস
সত্যজিৎ দাস জেলা প্রতিনিধি
| ফটো কার্ড

হাম আতঙ্কে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ,হাসপাতালে রোগীর চাপ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ও হাম সন্দেহে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চিকিৎসার চাপ। অনেক হাসপাতালেই দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ৪১৫ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২১ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন,মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছেন ১৭৩ জন। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩০ জন। অর্থাৎ সিলেটের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালেই হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন মোট ৩০৩ জন রোগী।

এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন,নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন,পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ২১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫৮ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে,এ সময়ে মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগজুড়ে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় মৌলভীবাজারেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন,হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী,চলতি বছরের শুরু থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে রুবেলার দুজন রোগীও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি এবং হাম সন্দেহে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সবচেয়ে বেশি ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ জন সন্দেহজনক এবং ৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী। সুনামগঞ্জে ৫৯ জন,হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,এক দিনে ১২১ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সিলেটের প্রধান সরকারি হাসপাতাল দুটিতে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। রোগীর চাপ আরও বাড়লে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, আক্রান্তদের সময়মতো চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাম আতঙ্কে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ,হাসপাতালে রোগীর চাপ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ও হাম সন্দেহে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চিকিৎসার চাপ। অনেক হাসপাতালেই দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ৪১৫ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২১ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন,মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি আছেন ১৭৩ জন। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩০ জন। অর্থাৎ সিলেটের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালেই হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন মোট ৩০৩ জন রোগী।

এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন,নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন,পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ২১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫৮ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে,এ সময়ে মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগজুড়ে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় মৌলভীবাজারেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন,হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী,চলতি বছরের শুরু থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে রুবেলার দুজন রোগীও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি এবং হাম সন্দেহে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সবচেয়ে বেশি ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ জন সন্দেহজনক এবং ৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী। সুনামগঞ্জে ৫৯ জন,হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,এক দিনে ১২১ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সিলেটের প্রধান সরকারি হাসপাতাল দুটিতে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। রোগীর চাপ আরও বাড়লে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, আক্রান্তদের সময়মতো চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream