সিলেটে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দ্বীপ শিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. রিফাত আহমদ (১৫) হত্যা মামলার পলাতক এক আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে জেলার নবীনগর উপজেলার আহম্মদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামির নাম জুয়েল আহমেদ (১৮)। তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপাড় এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে। র্যাবের দাবি,তিনি মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি।
র্যাব জানায়,গত ২১ জুলাই বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানার এরিনা ফুটসাল ইনডোর মাঠে ফুটবল খেলার সময় ফাউল করাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে রাফি নামের এক খেলোয়াড় তার দল নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাইলে প্রতিপক্ষ দলের সদস্যরা তাদের বাধা ও হুমকি দেয়।
পরে রাফি বিষয়টি জানিয়ে তার বন্ধু রিফাতকে ফোন করেন। ওই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে রিফাত কাজীরবাজার এলাকার সেলফি ব্রিজে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এ সময় রিফাতকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সাব্বির আহমদ,আব্দুস সামি ও রবিউলকেও হামলা করে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহত রিফাতের মা বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি,সিলেট ও সিপিসি-১,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যৌথ দল শুক্রবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়,গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মতামত