রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ভুয়া রশিদে ভারতীয় মহিষ বৈধ দেখানোর চেষ্টা,উদ্ধার ৫


সত্যজিৎ দাস
সত্যজিৎ দাস
| ফটো কার্ড

ভুয়া রশিদে ভারতীয় মহিষ বৈধ দেখানোর চেষ্টা,উদ্ধার ৫
ভারতীয় মহিষ উদ্ধারে বিজিবি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৪টি মহিষকে বৈধ দেখাতে স্থানীয় হাট থেকে কেনার দাবি করে ভুয়া রশিদ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির ছয় দিনের যাচাই-বাছাইয়ে রশিদে উল্লেখ করা কথিত বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সত্যতা মেলেনি। তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি এবং রশিদে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ। তবে অভিযানের আগে বাকি নয়টি মহিষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে,গত ১৪ আগস্ট রাতে বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় মহিষের একটি চালান বাংলাদেশে আনা হয়। পরে মহিষগুলো লুৎফুর রহমানের বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে মহিষ উদ্ধারে তৎপর হয় বিজিবি।

পরদিন ১৫ আগস্ট বিজিবি ও পুলিশ লুৎফুর রহমানের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় লুৎফুর রহমান মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুটি রশিদ দেখান। প্রাথমিক যাচাইয়ে রশিদগুলো সন্দেহজনক মনে হয়। একই সঙ্গে লুৎফুর রহমান ও তাঁর ভাই হিফজুর রহমান মহিষগুলো উদ্ধারে বাধা দেন।

লুৎফুর রহমানের দেওয়া কাগজপত্র অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় ১৪টি মহিষ রাখা হয়। তিনি লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই মহিষগুলোর দেখাশোনা করছিলেন।

এরপর টানা ছয় দিন চান্দগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজার,ইজারাদার ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে বিজিবি। লুৎফুর রহমানের দাবি অনুযায়ী চান্দগ্রাম বাজার থেকে মহিষগুলো কেনার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরে রশিদে উল্লেখ করা কথিত বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিজিবিকে জানান,তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি। এমনকি রশিদে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয়। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে রশিদ তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিজিবির যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তৎপরতায় লুৎফুর রহমান ও হিফজুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে আবারও যৌথ অভিযান চালানো হয়। বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালান।

অভিযানের সময় বাড়িতে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পাঁচটি মহিষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,খাবারের জন্য মহিষগুলোকে পাশের ডোবায় চরানো হতো। অভিযান শুরুর আগেই জিম্মায় থাকা ১৪টি মহিষের মধ্যে নয়টি সরিয়ে নিয়ে লুৎফুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান বলেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট গৌরনগরের লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ভারতীয় মহিষ উদ্ধারে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তখন ১৪টি মহিষ পাওয়া গেলেও লুৎফুর রহমান কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে সেগুলোর মালিকানা দাবি করেন এবং মহিষ উদ্ধারে বাধা দেন।

তিনি বলেন,কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য মহিষগুলো স্থানীয় একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়েছিল। পরে রশিদ ও কথিত বিক্রেতার তথ্য যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার আবার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি নয়টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

লে. কর্নেল আতাউর রহমান আরও বলেন,এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মহিষসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


ভুয়া রশিদে ভারতীয় মহিষ বৈধ দেখানোর চেষ্টা,উদ্ধার ৫

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৪টি মহিষকে বৈধ দেখাতে স্থানীয় হাট থেকে কেনার দাবি করে ভুয়া রশিদ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির ছয় দিনের যাচাই-বাছাইয়ে রশিদে উল্লেখ করা কথিত বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সত্যতা মেলেনি। তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি এবং রশিদে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ। তবে অভিযানের আগে বাকি নয়টি মহিষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে,গত ১৪ আগস্ট রাতে বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় মহিষের একটি চালান বাংলাদেশে আনা হয়। পরে মহিষগুলো লুৎফুর রহমানের বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে মহিষ উদ্ধারে তৎপর হয় বিজিবি।

পরদিন ১৫ আগস্ট বিজিবি ও পুলিশ লুৎফুর রহমানের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় লুৎফুর রহমান মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুটি রশিদ দেখান। প্রাথমিক যাচাইয়ে রশিদগুলো সন্দেহজনক মনে হয়। একই সঙ্গে লুৎফুর রহমান ও তাঁর ভাই হিফজুর রহমান মহিষগুলো উদ্ধারে বাধা দেন।

লুৎফুর রহমানের দেওয়া কাগজপত্র অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় ১৪টি মহিষ রাখা হয়। তিনি লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই মহিষগুলোর দেখাশোনা করছিলেন।

এরপর টানা ছয় দিন চান্দগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজার,ইজারাদার ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে বিজিবি। লুৎফুর রহমানের দাবি অনুযায়ী চান্দগ্রাম বাজার থেকে মহিষগুলো কেনার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরে রশিদে উল্লেখ করা কথিত বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিজিবিকে জানান,তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি। এমনকি রশিদে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয়। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে রশিদ তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিজিবির যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তৎপরতায় লুৎফুর রহমান ও হিফজুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে আবারও যৌথ অভিযান চালানো হয়। বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালান।

অভিযানের সময় বাড়িতে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পাঁচটি মহিষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,খাবারের জন্য মহিষগুলোকে পাশের ডোবায় চরানো হতো। অভিযান শুরুর আগেই জিম্মায় থাকা ১৪টি মহিষের মধ্যে নয়টি সরিয়ে নিয়ে লুৎফুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান বলেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট গৌরনগরের লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ভারতীয় মহিষ উদ্ধারে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তখন ১৪টি মহিষ পাওয়া গেলেও লুৎফুর রহমান কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে সেগুলোর মালিকানা দাবি করেন এবং মহিষ উদ্ধারে বাধা দেন।

তিনি বলেন,কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য মহিষগুলো স্থানীয় একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়েছিল। পরে রশিদ ও কথিত বিক্রেতার তথ্য যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার আবার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি নয়টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

লে. কর্নেল আতাউর রহমান আরও বলেন,এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মহিষসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream