বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু



বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু
বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের রাজনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা সংকট মোকাবিলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অনেকবার তার রাজনৈতিক জীবনের অবসানের আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তবে এবারের নির্বাচনের ফল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনই তার বিদায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রায় ২৬টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে। কিন্তু তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে আনুমানিক ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৭টি আসন পেতে পারে। এতে তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকায় তাদের ঐক্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল পেয়েছে ২১টি আসন। তবে আরব দলগুলোকে বাদ দিলে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। তাই সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে তাদের। ফলে নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করছে জোটের সমীকরণের ওপর।

ইসরায়েলের আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল দুটি মিলে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে আইজেনকটের ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে তারা রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত।

বিরোধীদের ঠেকাতে নতুন কৌশল? নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আরব ও ইহুদি দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানসহ কোনও নিরাপত্তা সংকট তৈরি বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানে যৌথ হামলার পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের আপত্তিসহ বিভিন্ন কারণে ওয়াশিংটন তখন সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখে।

সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ ভোট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে মনোনয়ন পাবেন, এমন নয়; বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকট এগিয়ে থাকতে পারেন।

মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। তিনি ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে।

এদিকে সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে এবং আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এই ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

হারজগ বুধবার নতুন নির্বাচন এড়াতে দলগুলোর প্রতি ‘খোলা মন’ নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তার মধ্যস্থতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু। 

সূত্র: সিএনএন

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ রাজনীতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু এবার কি শেষরক্ষা হবে?

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


বারবার পতনের শঙ্কা, তবুও যেভাবে টিকে আছেন নেতানিয়াহু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের রাজনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা সংকট মোকাবিলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অনেকবার তার রাজনৈতিক জীবনের অবসানের আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তবে এবারের নির্বাচনের ফল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনই তার বিদায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রায় ২৬টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে। কিন্তু তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে আনুমানিক ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৭টি আসন পেতে পারে। এতে তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকায় তাদের ঐক্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল পেয়েছে ২১টি আসন। তবে আরব দলগুলোকে বাদ দিলে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। তাই সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে তাদের। ফলে নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করছে জোটের সমীকরণের ওপর।

ইসরায়েলের আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল দুটি মিলে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে আইজেনকটের ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে তারা রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত।

বিরোধীদের ঠেকাতে নতুন কৌশল? নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আরব ও ইহুদি দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেছে। তবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানসহ কোনও নিরাপত্তা সংকট তৈরি বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানে যৌথ হামলার পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের আপত্তিসহ বিভিন্ন কারণে ওয়াশিংটন তখন সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখে।

সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ ভোট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে মনোনয়ন পাবেন, এমন নয়; বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকট এগিয়ে থাকতে পারেন।

মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। তিনি ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে।

এদিকে সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে এবং আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এই ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

হারজগ বুধবার নতুন নির্বাচন এড়াতে দলগুলোর প্রতি ‘খোলা মন’ নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তার মধ্যস্থতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু। 

সূত্র: সিএনএন


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream