ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের পরিচয়পত্র না থাকা, আগেই ব্যালট বইয়ে সিল মেরে রাখা এবং জালভোটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
অনেক প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার গলায় কোনো আইডি কার্ড ছিল না, আবার কিছু কার্ডে ছবি অনুপস্থিত ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্তদের দাবি—নির্বাচন কমিশন থেকে কার্ড সরবরাহ করা হয়নি। দেলোয়ার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, ছবি বা আইডি কার্ড না থাকলে তারা যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, নাকি বাইরে থেকে এসে বিএনপির পোলিং এজেন্টের কাজ করছেন—তা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।
প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট বইয়ে ভোটগ্রহণের আগেই সিল মেরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বড় খোচাবাড়ী ও রাজাগাঁও খড়িবাড়ি এলাকায় বিএনপির কর্মীরা দলবেঁধে ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত গেঞ্জি পরে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন এবং শিশুদের দিয়ে ব্যাপকভাবে জালভোট দেওয়ানো হয়।
পৌরসভার বুলবুল সেন্টার কেন্দ্রে বিএনপির কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে টেবিলের ওপরই ধানের শীষে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া খড়িবাড়িতে ‘ডাব’ প্রতীকের প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টের ওপর হামলা চালানো হয়।
একটিমাত্র আসনে উপনির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, "আমরা ভোট বর্জন করতে নির্বাচনে আসিনি। বগুড়া ও শেরপুরের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে হারিয়ে অন্য কোনো দলকে বিজয়ী করার চক্রান্ত করা হলে আমরা শেষ পর্যন্ত তা পর্যবেক্ষণ করব এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।"
ইসির পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা, জুডিসিয়াল ইনকোয়ারি কমিটি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতিনিধি দলের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপি তাদের হাতে রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
ভোটার ও কেন্দ্র: এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন (যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন)। মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: উপনির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
মতামত