রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ ও পেট ফোলা থাকার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। এদিকে নিহতের বাবা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর মায়ের মোবাইলে শেষ একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন তাহসিফ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান এই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসানের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়:
তাহসিফ সাউরির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, মাথার চুল কালো এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তাঁর ছোট ও পরিপাটি কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল।
মরদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো এবং হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক থাকলেও পেট কিছুটা ফোলা দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের বা ধস্তাধ্বস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত তাহসিফের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শপিং করে কাটিয়েছেন তাহসিফ। কিন্তু সন্ধ্যার পর ‘দীপ’ নামের এক জুনিয়রের ফোন পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন এবং আর ফেরেননি।
নিখোঁজ থাকাকালীন রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মুঠোফোনে একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। সেখানে লেখা ছিল—‘আম্মু আমি আসছি’। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরদিন ভোরে পুলিশের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পান পরিবার।
বাবা আরও জানান, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তাহসিফ আগে কখনো যাননি এবং সেখানে যাওয়ার কোনো কারণও তাঁদের জানা ছিল না।
শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল (যে সময়ে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়)। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবিসহ) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নৌ-পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মতামত