বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের চার দশক পর ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত


স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
| ফটো কার্ড

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের চার দশক পর ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের চার দশক পর ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত

সেই ১৯৮৬ সালে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্যক্তিগত পদক পেয়েছিল। এরপর প্রায় চার দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের আবারও ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক নিশ্চিত হলো। নাগোয়া এশিয়ান গেমসে উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিন্নাত আক্তারের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ব্রোঞ্জ পদকও নিশ্চিত হয়েছে।

মেয়েদের ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলাদেশের জিন্নাত। এই রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসা। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ফ্লোরেন্তিনাকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি জিন্নাতের। সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি।

সেমিফাইনালে উঠলেই কেন পদক নিশ্চিত হচ্ছে, সেটির ব্যাখ্যা রয়েছে উশুর প্রতিযোগিতার নিয়মে। এবারের ৫২ কেজি বিভাগে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ছয়জনের বেশি প্রতিযোগী থাকলে সেমিফাইনালে পরাজিত দুই খেলোয়াড়কে ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। ফলে জিন্নাতের সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে যায়।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালের সিউল আসরে। বক্সিংয়ের লাইট হেভিওয়েট বা ৮১ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। পরবর্তী সময়ে কাবাডি ও ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলীয়ভাবে পদক পেলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কোনো পদক আসেনি।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন নেত্রকোনার উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার। ঘরোয়া পর্যায়েও তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা সাতবার সোনা জিতেছেন তিনি। এবার এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে অভিষেকেই নিশ্চিত হলো পদক।

তবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হওয়াতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না জিন্নাত। আগামীকাল সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ চীনের একজন প্রতিযোগী। সেই ম্যাচে জিততে পারলে ফাইনালে উঠে রুপা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। আর ফাইনাল জিততে পারলে চার দশক পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের রং হতে পারে সোনালি।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একাধিক ডিসিপ্লিন থেকে পদকের প্রত্যাশা ছিল। ক্রিকেটে মেয়েদের দল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে পদকবঞ্চিত হয়েছে। জাপানের সাথে কাবাডিতেও হেরে পদকবঞ্চিত হয়েছে। এরপরই উশু থেকে এসেছে বাংলাদেশের নিশ্চিত পদকের খবর।

তবে জিন্নাত আক্তারের এই অর্জনের গুরুত্ব আলাদা। কারণ, তার হাত ধরে ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে আবারও পদক নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের চার দশক পর ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সেই ১৯৮৬ সালে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্যক্তিগত পদক পেয়েছিল। এরপর প্রায় চার দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের আবারও ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক নিশ্চিত হলো। নাগোয়া এশিয়ান গেমসে উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিন্নাত আক্তারের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ব্রোঞ্জ পদকও নিশ্চিত হয়েছে।

মেয়েদের ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলাদেশের জিন্নাত। এই রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসা। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় ফ্লোরেন্তিনাকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি জিন্নাতের। সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি।

সেমিফাইনালে উঠলেই কেন পদক নিশ্চিত হচ্ছে, সেটির ব্যাখ্যা রয়েছে উশুর প্রতিযোগিতার নিয়মে। এবারের ৫২ কেজি বিভাগে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ছয়জনের বেশি প্রতিযোগী থাকলে সেমিফাইনালে পরাজিত দুই খেলোয়াড়কে ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। ফলে জিন্নাতের সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে যায়।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালের সিউল আসরে। বক্সিংয়ের লাইট হেভিওয়েট বা ৮১ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। পরবর্তী সময়ে কাবাডি ও ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলীয়ভাবে পদক পেলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কোনো পদক আসেনি।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন নেত্রকোনার উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার। ঘরোয়া পর্যায়েও তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা সাতবার সোনা জিতেছেন তিনি। এবার এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে অভিষেকেই নিশ্চিত হলো পদক।

তবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হওয়াতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না জিন্নাত। আগামীকাল সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ চীনের একজন প্রতিযোগী। সেই ম্যাচে জিততে পারলে ফাইনালে উঠে রুপা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। আর ফাইনাল জিততে পারলে চার দশক পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের রং হতে পারে সোনালি।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একাধিক ডিসিপ্লিন থেকে পদকের প্রত্যাশা ছিল। ক্রিকেটে মেয়েদের দল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে পদকবঞ্চিত হয়েছে। জাপানের সাথে কাবাডিতেও হেরে পদকবঞ্চিত হয়েছে। এরপরই উশু থেকে এসেছে বাংলাদেশের নিশ্চিত পদকের খবর।

তবে জিন্নাত আক্তারের এই অর্জনের গুরুত্ব আলাদা। কারণ, তার হাত ধরে ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে আবারও পদক নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream