শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি গ্রামীণ অর্থনীতি


আনোয়ার আলমগীর
আনোয়ার আলমগীর
| ফটো কার্ড

টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি গ্রামীণ অর্থনীতি
টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি গ্রামীণ অর্থনীতি

বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি বেশ কিছু দিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকা-কেন্দ্রিক। ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে বা হাল আমলের পাতাল রেল—অর্থনীতির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বড় অংশই জমা হচ্ছে রাজধানীতে। কিন্তু রাজধানীমুখী এই প্রবৃদ্ধির বিপরীতে বারবার প্রশ্ন উঠছে: দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার তরুণের কর্মসংস্থান কোথায়?

​চীন আজ বিশ্বে উৎপাদনে শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে মূলত তাদের বিকেন্দ্রীকরণ ও ‘ভিলেজ এন্টারপ্রাইজ’ (Township and Village Enterprises) মডেলের কারণে। চীনারা প্রতিটি গ্রাম ও মফস্বলে ছোট-বড় কারখানা ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিটি ঘরকে একেকটি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে। ফলে চীনের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতা ফেলে কাজে ব্যস্ত থেকেছে, যা তাদের মাথাপিছু আয় ও জাতীয় অর্থনীতিকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন উচ্চতায়।

​ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের ঝুঁকি

গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধা, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কাজের সুযোগ না থাকায় কোটি মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। ফলে ঢাকা আজ বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, যানজটে তো বটেই, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে স্থবির। এই অবস্থায় মেগা প্রজেক্ট বা পাতাল রেল বানিয়ে ঢাকার ওপর সাময়িক প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান এতে হয় না।

​তরুণদের কর্মসংস্থান ও মেগা মানবসম্পদ

একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার যুবসমাজ। প্রতি বছর শিক্ষা শেষ করে হাজার হাজার তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশায় ভুগছে। কাজ না থাকায় এই বিপুল তরুণ শক্তি রাজপথে নানা সহিংসতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ছে।

​মেগা অবকাঠামোর চেয়ে 'মেগা মানবসম্পদ': শত কোটি ডলার খরচে একটি অবকাঠামো তৈরির চেয়ে জরুরি লক্ষ লক্ষ যুবকের হাতে কাজ তুলে দেওয়া।

​বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় শিল্পায়ন: চীনের মতো আমাদের গ্রামে গ্রামে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প, টেক্সটাইল বা ক্ষুদ্র প্রস্তুতকারী কারখানা গড়ে তুলতে পারলে গ্রামের মানুষ গ্রামেই উপার্জন করতে পারবে।

​সামাজিক স্থায়িত্ব: একজন মানুষ যখন কাজ পাবে এবং উপার্জনের পথ দেখতে পাবে, তখন সে নিজের জীবন গঠনে ব্যস্ত থাকবে; রাজপথে অহেতুক বিশৃঙ্খলা বা হরতাল-মারামারির সুযোগ থাকবে না।

​ভবিষ্যতের পথরেখা

শুধু ঢাকাভিত্তিক উন্নয়নে বিলিয়ন ডলার ঢাললে ভবিষ্যতে সেই বিনিয়োগ বিফলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সরকারের উচিত অবিলম্বে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নজর রাজধানীর বাইর ফিরিয়ে আনা। ছোট ছোট শহর ও গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কারখানা করার সুযোগ দিলে বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হতে পারবে।

​মেগা প্রজেক্টের ভিড়ে মানুষকে যেন আমরা ভুলে না যাই—কারণ মানুষের হাতে কাজ দেওয়াই হলো একটি দেশের সবচেয়ে বড় ও টেকসই উন্নয়ন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি গ্রামীণ অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি বেশ কিছু দিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকা-কেন্দ্রিক। ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে বা হাল আমলের পাতাল রেল—অর্থনীতির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বড় অংশই জমা হচ্ছে রাজধানীতে। কিন্তু রাজধানীমুখী এই প্রবৃদ্ধির বিপরীতে বারবার প্রশ্ন উঠছে: দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার তরুণের কর্মসংস্থান কোথায়?

​চীন আজ বিশ্বে উৎপাদনে শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে মূলত তাদের বিকেন্দ্রীকরণ ও ‘ভিলেজ এন্টারপ্রাইজ’ (Township and Village Enterprises) মডেলের কারণে। চীনারা প্রতিটি গ্রাম ও মফস্বলে ছোট-বড় কারখানা ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিটি ঘরকে একেকটি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে। ফলে চীনের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতা ফেলে কাজে ব্যস্ত থেকেছে, যা তাদের মাথাপিছু আয় ও জাতীয় অর্থনীতিকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন উচ্চতায়।

​ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের ঝুঁকি

গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধা, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কাজের সুযোগ না থাকায় কোটি মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। ফলে ঢাকা আজ বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, যানজটে তো বটেই, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে স্থবির। এই অবস্থায় মেগা প্রজেক্ট বা পাতাল রেল বানিয়ে ঢাকার ওপর সাময়িক প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান এতে হয় না।

​তরুণদের কর্মসংস্থান ও মেগা মানবসম্পদ

একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার যুবসমাজ। প্রতি বছর শিক্ষা শেষ করে হাজার হাজার তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশায় ভুগছে। কাজ না থাকায় এই বিপুল তরুণ শক্তি রাজপথে নানা সহিংসতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ছে।

​মেগা অবকাঠামোর চেয়ে 'মেগা মানবসম্পদ': শত কোটি ডলার খরচে একটি অবকাঠামো তৈরির চেয়ে জরুরি লক্ষ লক্ষ যুবকের হাতে কাজ তুলে দেওয়া।

​বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় শিল্পায়ন: চীনের মতো আমাদের গ্রামে গ্রামে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প, টেক্সটাইল বা ক্ষুদ্র প্রস্তুতকারী কারখানা গড়ে তুলতে পারলে গ্রামের মানুষ গ্রামেই উপার্জন করতে পারবে।

​সামাজিক স্থায়িত্ব: একজন মানুষ যখন কাজ পাবে এবং উপার্জনের পথ দেখতে পাবে, তখন সে নিজের জীবন গঠনে ব্যস্ত থাকবে; রাজপথে অহেতুক বিশৃঙ্খলা বা হরতাল-মারামারির সুযোগ থাকবে না।

​ভবিষ্যতের পথরেখা

শুধু ঢাকাভিত্তিক উন্নয়নে বিলিয়ন ডলার ঢাললে ভবিষ্যতে সেই বিনিয়োগ বিফলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সরকারের উচিত অবিলম্বে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নজর রাজধানীর বাইর ফিরিয়ে আনা। ছোট ছোট শহর ও গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কারখানা করার সুযোগ দিলে বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হতে পারবে।

​মেগা প্রজেক্টের ভিড়ে মানুষকে যেন আমরা ভুলে না যাই—কারণ মানুষের হাতে কাজ দেওয়াই হলো একটি দেশের সবচেয়ে বড় ও টেকসই উন্নয়ন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream