সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া ও অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটানো এবং ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে বাজারে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি বার্তাগুলোর তাত্ক্ষণিক প্রভাব কিছুটা ধীরগতির। বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ আশা করেন সরকারের সরাসরি বড় কোনো ফান্ড সাপোর্ট বা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ আসবে। ফলে ঘোষণা ও প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে বাজারে অস্থিরতা সাময়িকভাবে থেকেই যায়।
আইসিবি (ICB) এবং সরকারি ভূমিকা
ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) মূলত পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মার্কেট মেকারের কাজ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিনের পোর্টফোলিও চাপ ও তারল্য সংকটের কারণে আইসিবি বাজারে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাপোর্ট দিতে পারছে না। শুধু তদন্ত কমিটি বা রেগুলেটরি নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষণিক সূচক বাড়ানো সম্ভব নয়; বাজারে সাপোর্ট দিতে প্রয়োজন বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বাই-প্রেসার।
বাজারের বর্তমান অবস্থা ও পর্যবেক্ষণ
তদন্ত বনাম আসল সাপোর্ট: শুধু অনিয়ম তদন্ত বা মিটিং করে বাজারের রক্তক্ষরণ থামানো কঠিন। বাজারে স্থায়ী আস্থা ফেরাতে ক্যাপিটাল ইনফিউশন (ফান্ড সরবরাহ) এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
আতঙ্কে প্যানিক সেল এড়ানো: টানা দরপতনের শেষ ধাপে অনেক ভালো শেয়ার একদম বটম প্রাইসে (কম RSI ও আকর্ষণীয় ভ্যালুয়েশনে) চলে আসে। ইতিহাস বলে, চরম আতঙ্কের এই দিনগুলোতেই নতুন সাইকেলের ভিত্তি তৈরি হয়।
কৌশলগত অবস্থান: এই মন্দা কাটাতে টেকনিক্যাল রিভার্সাল সিগন্যালের (যেমন- RSI বা Money Flow Index) জন্য অপেক্ষা করা এবং ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারগুলোতে আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি না করে সঠিক জায়গায় ধরে রাখার কৌশলই এখন বেশি কার্যকর।
মতামত