বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। সংসদ সদস্যরা স্ত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়ায় গেলেও সেখানে তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠককে ‘শিক্ষামূলক সফর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক।
১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একটি ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের একটি বড় দল মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সফরসঙ্গীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনও ছিলেন। একটি সূত্রের দাবি, তালিকায় নাম না থাকলেও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল কেদিলানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরো ও ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. মাসজলি মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের বিষয়টি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারপন্থি দলগুলোর সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে সেখানে মতবিনিময় হয়েছে।
আলোচনায় জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, সততা, সত্যনিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার বিষয় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি জনগণের কথা শোনা এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘মাদানি’ ধারণার প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে।
ড. মাসজলি জানান, বাংলাদেশের সংসদে আগে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের অভিজ্ঞতা থেকেও আলোচনায় বিভিন্ন বিষয় জানার সুযোগ হয়েছে। সফরকারীদের মধ্যে কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, আবার কেউ তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াতের পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের নেটওয়ার্ক নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান তিনি।
সফরকারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে রংপুর-৬-এর মো. নুরুল আমিন, ঢাকা-৫-এর মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদসহ বিভিন্ন আসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
৩৪ সংসদ সদস্যের পাশাপাশি দলীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন থাকায় পুরুষ সফরকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ জন। তাদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর দেশটির বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ইসলামি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সফরটির উদ্দেশ্য নিয়েও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কর্মসূচি, প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় বৈঠক কিংবা সংগঠন সম্প্রসারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে সফরটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের পাশাপাশি কী পরিমাণে শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক মতবিনিময়কেন্দ্রিক ছিল, তা সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী বক্তব্য ও কর্মসূচি থেকে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
মতামত