বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘুষের অভিযোগ বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি কমাতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে বিএমইটি কার্ড ও ক্লিয়ারেন্স কার্ড দেওয়া বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণাও এসেছে। তবে তার অভিযোগ, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কার্ড দেওয়া বন্ধ থাকলেও গোপন প্রক্রিয়ায় বেশি অর্থের বিনিময়ে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

বিএমইটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য মূল প্রয়োজন একটি নির্ভুল নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেজ। প্লাস্টিক কার্ডের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য সমন্বয় করে এই ডেটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। এতে কোনো শ্রমিক কোন দেশে এবং কোন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, সে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তার মতে, এমন তথ্যভান্ডার থাকলে বিদেশে কোনো শ্রমিক অসুস্থ বা কর্মহীন হলে কিংবা দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সহজ হবে। একইভাবে মৃতদেহ দেশে ফেরত আনা, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং বেতন না পেলে দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসতে পারে।

হাসনাতের প্রস্তাব, পাসপোর্ট ও এনআইডির তথ্য সরাসরি নিরাপদ এপিআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সনদ শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের তথ্যভান্ডার থেকে অনলাইনে যাচাই করা এবং ভিসা, দূতাবাসের অনুমোদন ও মেডিকেল পরীক্ষার তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, মৃত্যু, বিমা এবং প্রবাসী কল্যাণের বিভিন্ন সুবিধার তথ্যও একই ডেটাবেজে রাখা যেতে পারে। এতে বিএমইটির ভূমিকা ‘গেটকিপার’ হিসেবে না রেখে মূলত নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় কাগজপত্র যাচাই ও নিম্নমানের সফটওয়্যারনির্ভর প্রক্রিয়ার কারণে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তার দাবি, রিয়েল-টাইম এপিআইভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে ভুয়া কাগজপত্র শনাক্ত করা সহজ হবে এবং দালালনির্ভরতা কমতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের অভিবাসন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের জন্য ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়। নেপালেও অভিবাসন ব্যয় ও দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে বিভিন্ন নীতিমালা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় বেশি। তার ভাষ্য, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, ঘুষ ও দালালচক্রের কারণে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

সবশেষে তিনি প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিএমইটির বর্তমান নিবন্ধন ব্যবস্থা আমূল সংস্কার এবং কার্ডনির্ভরতার পরিবর্তে ডেটাবেজভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘুষের অভিযোগ বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি কমাতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে বিএমইটি কার্ড ও ক্লিয়ারেন্স কার্ড দেওয়া বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণাও এসেছে। তবে তার অভিযোগ, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কার্ড দেওয়া বন্ধ থাকলেও গোপন প্রক্রিয়ায় বেশি অর্থের বিনিময়ে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

বিএমইটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য মূল প্রয়োজন একটি নির্ভুল নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেজ। প্লাস্টিক কার্ডের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য সমন্বয় করে এই ডেটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। এতে কোনো শ্রমিক কোন দেশে এবং কোন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, সে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তার মতে, এমন তথ্যভান্ডার থাকলে বিদেশে কোনো শ্রমিক অসুস্থ বা কর্মহীন হলে কিংবা দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সহজ হবে। একইভাবে মৃতদেহ দেশে ফেরত আনা, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং বেতন না পেলে দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসতে পারে।

হাসনাতের প্রস্তাব, পাসপোর্ট ও এনআইডির তথ্য সরাসরি নিরাপদ এপিআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সনদ শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের তথ্যভান্ডার থেকে অনলাইনে যাচাই করা এবং ভিসা, দূতাবাসের অনুমোদন ও মেডিকেল পরীক্ষার তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, মৃত্যু, বিমা এবং প্রবাসী কল্যাণের বিভিন্ন সুবিধার তথ্যও একই ডেটাবেজে রাখা যেতে পারে। এতে বিএমইটির ভূমিকা ‘গেটকিপার’ হিসেবে না রেখে মূলত নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় কাগজপত্র যাচাই ও নিম্নমানের সফটওয়্যারনির্ভর প্রক্রিয়ার কারণে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তার দাবি, রিয়েল-টাইম এপিআইভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে ভুয়া কাগজপত্র শনাক্ত করা সহজ হবে এবং দালালনির্ভরতা কমতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের অভিবাসন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের জন্য ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়। নেপালেও অভিবাসন ব্যয় ও দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে বিভিন্ন নীতিমালা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় বেশি। তার ভাষ্য, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, ঘুষ ও দালালচক্রের কারণে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

সবশেষে তিনি প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিএমইটির বর্তমান নিবন্ধন ব্যবস্থা আমূল সংস্কার এবং কার্ডনির্ভরতার পরিবর্তে ডেটাবেজভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream