সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

সেকেন্ডারি বাজারে মূলধনী মুনাফাই মূল আকর্ষণ: অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের


আনোয়ার আলমগীর
আনোয়ার আলমগীর
| ফটো কার্ড

সেকেন্ডারি বাজারে মূলধনী মুনাফাই মূল আকর্ষণ: অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর একের পর এক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বাজারে কোন শেয়ারের দর বৃদ্ধিকে সবসময় 'কারসাজি' হিসেবে দেখার প্রবণতা এবং অপ্রয়োজনীয় তদন্ত বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে।

​বাজারে চলমান বিভিন্ন সংকট ও সমাধান নিয়ে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের মূল দাবি ও বক্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

​বাজারের স্বাভাবিক গতিতে বাধার সৃষ্টি: দর বাড়লেই কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান কিংবা হঠাৎ তদন্ত শুরু করায় ক্রেতারা আতঙ্কিত হন। চাহিদা ও জোগানের স্বাভাবিক নিয়মে দর বাড়লে তাকে সরাসরি কারসাজি না ভেবে বাজারের নিজস্ব নিয়মে চলতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

​সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তদন্ত নয়: বিনিয়োগকারীদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কিনে কেউ প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিখিত অভিযোগ না করা পর্যন্ত তদন্তের নামে অতিরিক্ত তদারকি করার প্রয়োজন নেই। এতে ভালো শেয়ারের লেনদেনও থমকে দাঁড়ায়।

​পতনের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি: সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে দরপতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মূল সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। কম দামে শেয়ার বিক্রি করে যারা বাজারে কৃত্রিম পতন তরান্বিত করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

​লেনদেনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: কে কত দামে শেয়ার কিনবে বা বিক্রি করবে, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রতিটি দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত কঠোরতা প্রদর্শন করলে বাজার তার প্রাণচঞ্চলতা হারায়।

​ক্যাপিটাল গেইনের গুরুত্ব: সেকেন্ডারি মার্কেটের প্রধান আকর্ষণ হলো মূলধনী মুনাফা বা 'ক্যাপিটাল গেইন'। ভালো কোম্পানি, বন্ড মার্কেট কিংবা সুকুক আনার মতো দীর্ঘমেয়াদি নানা তত্ত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে ক্যাপিটাল গেইনের সুযোগ না থাকলে কোনো বিনিয়োগকারীই উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে থাকবে না। শুধু বাৎসরিক সামান্য লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) ওপর ভর করে কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

​বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সেকেন্ডারি বাজারকে মুক্তভাবে কাজ করতে দেওয়াই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। নীতিনির্ধারণী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে পুঁজিবাজারে আবার আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেকেন্ডারি বাজারে মূলধনী মুনাফাই মূল আকর্ষণ: অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর একের পর এক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বাজারে কোন শেয়ারের দর বৃদ্ধিকে সবসময় 'কারসাজি' হিসেবে দেখার প্রবণতা এবং অপ্রয়োজনীয় তদন্ত বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে।

​বাজারে চলমান বিভিন্ন সংকট ও সমাধান নিয়ে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের মূল দাবি ও বক্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

​বাজারের স্বাভাবিক গতিতে বাধার সৃষ্টি: দর বাড়লেই কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান কিংবা হঠাৎ তদন্ত শুরু করায় ক্রেতারা আতঙ্কিত হন। চাহিদা ও জোগানের স্বাভাবিক নিয়মে দর বাড়লে তাকে সরাসরি কারসাজি না ভেবে বাজারের নিজস্ব নিয়মে চলতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

​সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তদন্ত নয়: বিনিয়োগকারীদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কিনে কেউ প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিখিত অভিযোগ না করা পর্যন্ত তদন্তের নামে অতিরিক্ত তদারকি করার প্রয়োজন নেই। এতে ভালো শেয়ারের লেনদেনও থমকে দাঁড়ায়।

​পতনের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি: সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে দরপতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মূল সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। কম দামে শেয়ার বিক্রি করে যারা বাজারে কৃত্রিম পতন তরান্বিত করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

​লেনদেনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: কে কত দামে শেয়ার কিনবে বা বিক্রি করবে, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রতিটি দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত কঠোরতা প্রদর্শন করলে বাজার তার প্রাণচঞ্চলতা হারায়।

​ক্যাপিটাল গেইনের গুরুত্ব: সেকেন্ডারি মার্কেটের প্রধান আকর্ষণ হলো মূলধনী মুনাফা বা 'ক্যাপিটাল গেইন'। ভালো কোম্পানি, বন্ড মার্কেট কিংবা সুকুক আনার মতো দীর্ঘমেয়াদি নানা তত্ত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে ক্যাপিটাল গেইনের সুযোগ না থাকলে কোনো বিনিয়োগকারীই উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে থাকবে না। শুধু বাৎসরিক সামান্য লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) ওপর ভর করে কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

​বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি সেকেন্ডারি বাজারকে মুক্তভাবে কাজ করতে দেওয়াই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। নীতিনির্ধারণী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে পুঁজিবাজারে আবার আস্থা ফিরিয়ে আনতে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream