শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার চরফ্যাশনে স্বর্ণের কানের দুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মাইনুর বেগম এবং দুই মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আলমগীরের আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা সেখানে এগিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তখন রাকিব, পান্না ও হেলাল তাকে পেটে ও পিঠে লাথি এবং কিল-ঘুসি মারেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে নাছিমা অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

নাছিমাকে উদ্ধার এবং সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হন। পরে সবাইকে চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাছিমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের পর তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে জানা গেছে। নাছিমার স্বামী বাচ্চু বলেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, মারধরের পর নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার থ্রেটেন্ড অ্যাবরশন ধরা পড়ে এবং প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন শনাক্ত হলে তার ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডিএন্ডসি) করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগটি সংবেদনশীল। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভোলার চরফ্যাশনে স্বর্ণের কানের দুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মাইনুর বেগম এবং দুই মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আলমগীরের আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা সেখানে এগিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তখন রাকিব, পান্না ও হেলাল তাকে পেটে ও পিঠে লাথি এবং কিল-ঘুসি মারেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে নাছিমা অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

নাছিমাকে উদ্ধার এবং সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হন। পরে সবাইকে চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাছিমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের পর তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে জানা গেছে। নাছিমার স্বামী বাচ্চু বলেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, মারধরের পর নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার থ্রেটেন্ড অ্যাবরশন ধরা পড়ে এবং প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন শনাক্ত হলে তার ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডিএন্ডসি) করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগটি সংবেদনশীল। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream