শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যে লাগাম টানতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার শর্তে নানা কঠোর বিধি আরোপ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনী অপরাধে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এসব বিধানসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে প্রণীত এই সংশোধনী এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য এটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের আলাদা নির্বাচনী বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ, ব্যয়সীমা দ্বিগুণ

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত বা বাতিল হয়।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ইসি সূত্র বলছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি রাখতে হবে।

এ ছাড়া বেশি সংখ্যক প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেশি বেগ পেতে হবে। ভোট পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ কারণে নির্বাচনী বিধিমালায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

তবে ইসির সংশোধনী অনুযায়ী, প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম-এমন যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, জামানত বাড়ানো এবং জামানত রক্ষার শর্ত কঠোর করার ফলে প্রার্থী সংখ্যা কমবে, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে-এটি ঠিক। তবে জামানত বেশি করার ফলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আবার জামানত হারানোর ভয়ে অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন না। এতে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তির ভোটে দাঁড়ানোর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তবে এই বিধানের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রার্থী নিজের জয় নিশ্চিত করতে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে থাকেন। পরে এসব ডামি প্রার্থীর নামে বাড়তি এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে এসব ‘ডামি’ প্রার্থী করা এবং এজেন্ট কেনাবেচার প্রবণতা কমে আসবে।

বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আবদুল আলীম। তবে প্রার্থীরা যেন নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে থাকেন, তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ অবশ্য জামানত বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে, ২৫ হাজার টাকা জামানত একজন প্রার্থীর জন্য খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগে থেকেই এই পরিমাণ নির্ধারিত আছে। সেটির সঙ্গে সমন্বয় করতে আমরা ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে এসেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধিমালাও দ্রুত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু নতুন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হলফনামায় নতুন তথ্য যুক্ত করা এবং অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একক প্রার্থী থাকলে আগের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণার বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

বিধিমালায় নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তিকে হুমকি, ভয় দেখানো বা আঘাত করলে অথবা ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের সাজাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

অনিয়মের কারণে ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর এজেন্ট না থাকলেও নির্বাচন বৈধ বলে গণ্য হবে। নির্বাচনী প্রতীকেও পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন।  

বিষয় : নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রার্থী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যে লাগাম টানতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার শর্তে নানা কঠোর বিধি আরোপ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনী অপরাধে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এসব বিধানসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে প্রণীত এই সংশোধনী এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য এটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের আলাদা নির্বাচনী বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ, ব্যয়সীমা দ্বিগুণ

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত বা বাতিল হয়।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ইসি সূত্র বলছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি রাখতে হবে।

এ ছাড়া বেশি সংখ্যক প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেশি বেগ পেতে হবে। ভোট পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ কারণে নির্বাচনী বিধিমালায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

তবে ইসির সংশোধনী অনুযায়ী, প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম-এমন যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, জামানত বাড়ানো এবং জামানত রক্ষার শর্ত কঠোর করার ফলে প্রার্থী সংখ্যা কমবে, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে-এটি ঠিক। তবে জামানত বেশি করার ফলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আবার জামানত হারানোর ভয়ে অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন না। এতে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তির ভোটে দাঁড়ানোর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তবে এই বিধানের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রার্থী নিজের জয় নিশ্চিত করতে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে থাকেন। পরে এসব ডামি প্রার্থীর নামে বাড়তি এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে এসব ‘ডামি’ প্রার্থী করা এবং এজেন্ট কেনাবেচার প্রবণতা কমে আসবে।

বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আবদুল আলীম। তবে প্রার্থীরা যেন নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে থাকেন, তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ অবশ্য জামানত বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে, ২৫ হাজার টাকা জামানত একজন প্রার্থীর জন্য খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগে থেকেই এই পরিমাণ নির্ধারিত আছে। সেটির সঙ্গে সমন্বয় করতে আমরা ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে এসেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধিমালাও দ্রুত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু নতুন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হলফনামায় নতুন তথ্য যুক্ত করা এবং অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একক প্রার্থী থাকলে আগের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণার বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

বিধিমালায় নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তিকে হুমকি, ভয় দেখানো বা আঘাত করলে অথবা ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের সাজাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

অনিয়মের কারণে ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর এজেন্ট না থাকলেও নির্বাচন বৈধ বলে গণ্য হবে। নির্বাচনী প্রতীকেও পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন।  


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream