রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামে পরিবারের তিন সদস্যকে অচেতন করে ঘরে প্রবেশের পর স্বর্ণালংকার, রুপার চাঁদি, নগদ টাকা ও পোশাক চুরির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫)।
রফিকুল ইসলাম খালিশপুর গ্রামের মৃত তাহের আলী মণ্ডলের ছেলে। তাঁর স্ত্রী মোছাঃ তারা বিবি (৫০) এবং ছোট মেয়ে রুবি খাতুন (২৫)। রুবি খাতুনের স্বামী শাহ পরান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
পরিবারের ছোট মেয়ে রুবি খাতুন জানান, রাতে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি দেয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁদের মুখে কালো মুখোশ ও মাথায় ক্যাপ ছিল। তিনি দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে বাবাকে ডাকলে তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলা হয়, “আর একটি কথা বললে গলা কেটে ফেলবো।” এতে তিনি ভয়ে আর কোনো কথা বলেননি।
রুবি খাতুন আরও জানান, এর পরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁর নাকের কাছে চেতনানাশক জাতীয় কোনো পদার্থ ধরেন। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি বলে জানান।
অভিযোগে বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে রফিকুল ইসলাম ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে আলমারিতে রাখা ২ ভরি স্বর্ণের গহনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা; ৯ ভরি রুপার চাঁদি, আনুমানিক মূল্য ৫৪ হাজার টাকা; নগদ ১০ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের পোশাক, আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, চুরির সময় বাড়ি থেকে একটি এলইডি টিভি বাইরে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে এলাকার লোকজন সেটি দেখতে পান।
অভিযোগকারীর ধারণা, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাড়ির দেয়াল টপকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এসব মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মো. আপন সরদার (৩২) ও শরিফা বিবি (৪৫) সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন। পরে বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রফিকুল ইসলাম।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মতামত