স্যাক্সনি-আনহাল্টে রেকর্ড ভোট, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিডিইউকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে উগ্র ডানপন্থী দলটি
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে দেশটির উগ্র ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে দলটি ৪৪ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছে, যা ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে বড় জয় পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি এএফডি। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন; দলটি পেয়েছে প্রায় ৩৯টি আসন।
এএফডির রাজ্য নেতা উলরিশ জিগমুন্ড ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সরকার পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই ফল শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টের জন্য নয়, পুরো জার্মানির জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা।
নির্বাচনে এএফডির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল দল সিডিইউ পেয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। দলটির ফল ২০২১ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। সিডিইউ নেতা স্ভেন শুলৎসে এএফডির জয় স্বীকার করে ফলাফলকে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
জার্মানির মূলধারার দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সঙ্গে জোট সরকার গঠন না করার নীতি অনুসরণ করছে, যা দেশটির রাজনীতিতে ‘ব্রান্ডমাউয়ার’ বা রাজনৈতিক দেয়াল হিসেবে পরিচিত। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও এএফডির সামনে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে উগ্র ডানপন্থী কোনো দল এককভাবে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির এই শক্তিশালী অবস্থান সেই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
এএফডির জনপ্রিয়তার পেছনে অভিবাসন, নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দলটির সমর্থকদের বক্তব্য। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য—প্রায় ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডিকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডানপন্থী উগ্রবাদী’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে, যদিও দলটি এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করেছে।

এএফডির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং ‘রিমিগ্রেশন’ নীতি নিয়েও দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। দলটি এটিকে মূলত অবৈধভাবে অবস্থানকারী ও অপরাধে জড়িত বিদেশিদের বহিষ্কারের নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করে। সমালোচকেরা অবশ্য এটিকে আরও ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কারের পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।
এদিকে নির্বাচনের ফল নিয়ে জার্মানির বাইরে থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও এএফডির ফলকে ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিপরীতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এ ফলাফল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্যাক্সনি-আনহাল্টের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে এএফডির শক্তিশালী অবস্থান আগেই স্পষ্ট ছিল। এবার বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় জার্মানির মূলধারার দলগুলোর জন্য অভিবাসন, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ মোকাবিলা করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া এএফডি কীভাবে রাজ্য সরকার গঠনের চেষ্টা করবে, নাকি নতুন নির্বাচনের পথে যাবে। জিগমুন্ড ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে নতুন নির্বাচনও হতে পারে।
মতামত