নিবন্ধন না থাকার অভিযোগ, অভিযানে প্রশাসন
ভারতের উত্তরাখন্ডে নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন না থাকার অভিযোগে ১৭০টির বেশি মাদ্রাসা সিল করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কয়েক মাস ধরে চলা অভিযানের অংশ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাখন্ড সরকারের নির্দেশে অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো রাজ্যের মাদ্রাসা বোর্ড কিংবা শিক্ষা বিভাগের প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে নৈনিতাল জেলার হলদোয়ানির বনভুলপুরা এলাকায় জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় কয়েকটি মাদ্রাসা সিল করা হয়। ১৩ এপ্রিল এক অভিযানে সাতটি মাদ্রাসা সিল করার কথা জানায় জেলা প্রশাসন।
এর আগে মার্চ মাসেও উধম সিং নগর জেলায় ৩২টি অনিবন্ধিত মাদ্রাসা সিল করা হয়েছিল। দেরাদুন জেলাতেও ১৪টি মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানটি মূলত নিবন্ধন ও সরকারি নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। তবে বিরোধী কংগ্রেস ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি অভিযানকে সরকারের নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭০টির বেশি মাদ্রাসা সিল করার আগে স্বীকৃতি দেওয়ার সংশ্লিষ্ট কমিটি দীর্ঘ সময় বৈঠক করেনি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর এক বৈঠকে ১৪৭টি আবেদন পর্যালোচনা করে ৯৯টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে উত্তরাখন্ড হাইকোর্টেও সিল করা মাদ্রাসাগুলো নিয়ে মামলা হয়। আদালতের বিভিন্ন শুনানিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করা হয়নি; মূলত অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে মাদ্রাসাগুলো বন্ধের কারণ নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও বিরোধীদের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি বক্তব্যে বিষয়টি নিবন্ধন ও শিক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম মানার সঙ্গে যুক্ত; বিরোধীদের অভিযোগ, অভিযানের ধরন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর অসম প্রভাব ফেলছে।
মতামত