জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার দামি গাড়িতে চড়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ১১ দলের সাম্প্রতিক লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি এটিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, মন্ত্রীপাড়ায় আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পূর্বে আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের বিষয়ে কথা বলতেন। তিনি প্রশ্ন তুলে লেখেন, এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাইভ করেছেন নাসীরুদ্দীন। ওই নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি গাড়িটি উপহার পেয়েছেন, নাকি সম্পদ দখলের অংশ হিসেবে গাড়িটি নেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের দাবি রাখে।
লংমার্চের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, এই কর্মসূচিতে গণঅভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচার বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চটির মূল লক্ষ্য ছিল উসকানিমূলক স্লোগান ও বহরে লাঠিসোঁটা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি অস্থিরতা তৈরি করা। তবে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পা দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত বিষয়ে এনসিপি কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট দূর করার দাবিতে ১১-দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চ কর্মসূচির আয়োজন করে। শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের বহর নিয়ে কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হয়। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
মতামত