৪১টি ব্যাংকের সিএসআর (Corporate Social Responsibility) তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
পাওয়ার ও আইনের অপব্যবহার: আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ (যেখানে শেখ হাসিনা সভাপতি ও শেখ রেহানা সহসভাপতি ছিলেন)-এর নামে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে জোরপূর্বক বা প্রভাব খাটিয়ে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছেন।
সিএসআর নীতিমালার লঙ্ঘন: বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের সার্কুলার এবং ২০২২ সালের সিএসআর গাইডলাইন অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রাস্টে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অনুদান দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই।
ভুয়া ট্রাস্ট ও অনিয়ম: দুদকের সরজমিন অনুসন্ধানে ওই ট্রাস্টের প্রদত্ত ঠিকানায় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর বা এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অনুমোদিত নয় এবং তাদের প্রতিশ্রুত কার্যক্রমের কোনো বাস্তবায়নও পাওয়া যায়নি।
নজরুল ইসলাম মজুমদারের ভূমিকা: ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভার এজেন্ডাবহির্ভূত থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ শিরোনামে এই অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে তা চিঠি দিয়ে নির্দিষ্ট করে দিতে বাধ্য করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মূলত 'ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে' প্রভাব বিস্তার করে এ বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মতামত