রাজধানীর গুলশানের বারিধারা এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মরহুম রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো: শাহজাহান কবিরের আদালতে আপিল শর্তে বিদিশার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর পরের দিন ২৬ আগস্ট বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার আইনজীবী আপিল শর্তে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বর্তমানে বিদিশা কারাগারে আটক রয়েছেন।
গত ২০ মে বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জামসেদ আলম।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো এক মাস কারাভোগ করতে হবে। এই মামলায় বিদিশা সিদ্দিক জামিন নিয়েছিলেন। গত ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তার জামিন বাতিল হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদি মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সাথে যোগাযোগ করেন।
পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদিকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন।
মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, বাদি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।
মামলায় আরো বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭৫ লাখ টাকার একটি চেক দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
২০০৯ সালের ৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কনিকা বিশ্বাস।
মামলার বিচার চলাকালে আদালতে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সূত্র : বাসস
মতামত