মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা নিয়ে আজ বান্দরবান উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে জনসমুদ্রে পরিণত হলো সুধী সমাবেশ। পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে মাদকের ছোবল রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
আজ বৃহস্পতিবার ৩টায় ইনস্টিটিউটের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত এই সমাবেশে পাহাড়ের ১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, যুবক ও নারীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো হল কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। “মাদকমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম চাই” স্লোগানে মুখরিত ছিল চারপাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “মাদক শুধু একজন যুবককে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি প্রজন্মকে শেষ করে দেয়। পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি আর সংস্কৃতিকে যে মাদক গিলে খেতে চায়, আমরা তাকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়ব না।
তিনি আরও বলেন, সরকার এখন থেকে স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করবে। পাশাপাশি যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং যারা ভুল করে ফিরে আসতে চায় তাদের জন্য থাকবে পূনর্বাসনের সুযোগ।
“পাহাড়ের মাটি, পাহাড়ের মানুষ, পাহাড়ের ঐতিহ্য — এগুলোই আমাদের গর্ব। এই গর্বকে আমরা মাদকের কাছে বিক্রি হতে দেব না” — তার এই ঘোষণায় করতালিতে ফেটে পড়ে পুরো হল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষাবিদরা। সকলেই প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের কঠোর অবস্থানই এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের শিল্পীদের পরিবেশনায় মাদকবিরোধী থিম সং ও নাটক উপভোগ করেন।
্সররমাবেশ থেকে ৫ দফা প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে — প্রতি উপজেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র, স্কুলে সচেতনতা ক্লাস এবং সীমান্তে চেকপোস্ট জোরদার করা।আজকের এই সমাবেশ শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল পাহাড়ের মানুষের মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নেওয়ার দিন। ব্যারিস্টার মীর হেলালের কণ্ঠে সেটাই আবারও স্পষ্ট হলো — “মাদক না, শিক্ষা হ্যাঁ। ধ্বংস না, উন্নয়ন হ্যাঁ।”
মতামত