রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফুল, খাতা-কলম ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘দেশের সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। আমি নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পৃথিবীতে স্বাগত জানাই। তোমরা দুই লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে এখানে সুযোগ পেয়েছো। সুতরাং তোমরা সামনের দিনগুলোতে নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রেখে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করছি।’
নবীন শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমাদের অবশ্যই কথা বলার স্বাধীনতা আছে। তবে মনে রাখবে, সেটা অবাধ স্বাধীনতা নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের পরিবার। সুতরাং তোমাদের ব্যবহার ও নমনীয় হওয়া উচিত।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘যারা আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা, তারা আমাদের ক্যাম্পাসে এসেছেন। শুরুতেই তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আপনারা যেখানে যাবেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান না করে যেতে পারলে, আমি দ্বিতীয়বার আপনাদের সামনে আসব না। ইনশাআল্লাহ, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য উদাহরণ হতে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হওয়া ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী শুকরিয়া নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট ও ত্যাগের পরে আমি ৭৫৩ একরের ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই সৃষ্টিকর্তা এবং আমার পিতা-মাতাকে। আমরা নবীন শিক্ষার্থীরা প্রাচ্যের ক্যামব্রিজখ্যাত এই মতিহার উদ্যানের ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষা করে একজন ভালো মানুষ হিসেবে বের হতে চাই।’
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা এ এইচ এম খুরশীদ আলম ও জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক এস এম কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অনুষদের অধিকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে চার হাজারের অধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মতামত