শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

‘নিজেই মদ খেয়েছি,তারা সাহায্য করতে এসেছিল’



‘নিজেই মদ খেয়েছি,তারা সাহায্য করতে এসেছিল’
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝখানে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণী নিজেই মদ্যপানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কেউ তাকে মদ পান করায়নি এবং মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে সাহায্য করতে এসেছিলেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,‘হ্যাঁ,আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’

পুলিশ জানিয়েছে,জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে শনাক্ত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। ওই অবস্থায় তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন।

তিনি বলেন,পরে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যান। মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। বর্তমানে তিনি টঙ্গীতে বসবাস করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী দাবি করেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে ফোন করলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়েসংক্রান্ত তথ্যও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ,সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন বলেও দাবি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন মন্তব্য ও পোস্ট করেন।

পরে জানা যায়,তরুণী জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির সবগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন,তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। গাড়িটির মালিকানা এবং দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য,মোটরসাইকেলের মালিকানা,ভিডিওর উৎস ও ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ বলছে,তরুণীর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির পার্থক্য রয়েছে। তাই মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণী বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না,নাকি এটি অসুস্থ অবস্থায় একজন তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা,তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘নিজেই মদ খেয়েছি,তারা সাহায্য করতে এসেছিল’

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝখানে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণী নিজেই মদ্যপানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কেউ তাকে মদ পান করায়নি এবং মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে সাহায্য করতে এসেছিলেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,‘হ্যাঁ,আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’

পুলিশ জানিয়েছে,জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে শনাক্ত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। ওই অবস্থায় তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন।

তিনি বলেন,পরে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যান। মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। বর্তমানে তিনি টঙ্গীতে বসবাস করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী দাবি করেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে ফোন করলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়েসংক্রান্ত তথ্যও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ,সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন বলেও দাবি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন মন্তব্য ও পোস্ট করেন।

পরে জানা যায়,তরুণী জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির সবগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন,তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। গাড়িটির মালিকানা এবং দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য,মোটরসাইকেলের মালিকানা,ভিডিওর উৎস ও ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ বলছে,তরুণীর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির পার্থক্য রয়েছে। তাই মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণী বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না,নাকি এটি অসুস্থ অবস্থায় একজন তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা,তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream