গভীররাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শেরে বাংলা হলে ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী রাহি ইসলাম শুমনের সাথে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান সিফাতের বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। রাহি ইসলাম শুমনও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত কিন্তু তার কোনো পদ নেই বলে জানাগেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ২টার দিকে শেরে বাংলা হলের নিচে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহি ইসলাম শুমনের সাথে বিশৃঙ্খলায় জড়ায় ছাত্রদল সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান সিফাতসহ ৮-১০ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও উপস্থিত হন।
বিশৃঙ্খলার সময়, ছাত্রদল সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি রকি, সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান, আকিব, রবিনসহ বেশকিছু ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরও কিছু শিক্ষার্থীরা ছিলেন বলে জানাগেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার রাতে ভোলা রোডে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাহি ইসলাম শুমনের সাথে কথা কাটাকাটি হয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান সিফাতের। সিফাত গতকাল রাত ১১টার দিকে ফের ৮-১০ জনকে সাথে নিয়ে শুমনের রুমে যায়। ঐসময় রুমে শুমন উপস্থিত ছিলেন না পরে শুমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে রাত দুইটার দিকে ছাত্রদল সভাপতির নেতৃত্বে শেরে বাংলা হলের নিচে মীমাংসায় বসলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাহি ইসলাম শুমন বলেন, বুধবার রাতে ভোলা রোডে একটি বিষয় নিয়ে সোহানুর রহমান সিফাতের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। পরেরদিন সকালে দু'জনকে নিয়ে বসে ঐটা মীমাংসার জন্য বলে ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন। কিন্তু সিফাত সকালে উপস্থিত না হয়ে রাত ১১টার দিকে ৮-১০ জনকে নিয়ে হলে আমার রুমে চলে যায় সিফাত। আমি তখন হলে ছিলাম না আমার রুমমেটদের বলে রাহি কোথায় ওরে মিষ্টি খাওয়াবো। বিষয়টি নিয়ে আমি ছাত্রদল সভাপতিকে বললে উনিসহ আমার বিভাগের এক সিনিয়র নিয়ে শেরে বাংলা হলের নিচে বসি মীমাংসার জন্য এসময় ছাত্রদলের রবীন সিফাত আকিব এরা আমার উপর উত্তেজিত হয়। পরে সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, শেরে বাংলা হলের নিচে রাত ২টার দিকে চিল্লাপাল্লা শোনা যায়। এসময় কয়েকজনকে উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করতেও শোনা যাচ্ছিলো। এসময় ছাত্রদল সহ-সভাপতি রবিন ও সোহানুর রহমান সিফাতকে বেশি উত্তেজিত দেখা যায় বলে জানান তারা। একপর্যায়ে ছাত্রদল সভাপতির প্রতি উত্তেজিত হতে দেখা যায় সোহানুর রহমান সিফাতকে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান সিফাতকে একাধিকবার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, "এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় না। নবম ব্যাচের ওদের নিজেদের মধ্য ব্যক্তিগত একটি ঝামেলা হয়েছিলো। বিষয়টি নিজেরা আবার মিমাংসা করে নিয়েছে, এটা সমাধান হয়েছে।"
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, "আমি ঘটনা শুনেছি ক্যাম্পাসে এসে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসবো বিষয়টি সমাধানের জন্য।"
মতামত