ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে এখন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবরটি প্রথম জোরালোভাবে সামনে আনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সংসদ সদস্য আলী শাহিন সাও পাওলোতে ব্রাজিলের মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ করেন।
সেখানে আলী শাহিন জানান, সাও পাওলোর বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। শাহিনের দাবি অনুযায়ী, শেখ জিহাদ হামাদা তাকে জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে রবার্তো কার্লোস তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং প্রায় চার সপ্তাহ আগে এক সাক্ষাতে শাহাদা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
এই দাবির পরই বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবার্তো কার্লোসের ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
এদিকে, গুঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবনের সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। স্পেনের মরক্কো বংশোদ্ভূত ফিফা-স্বীকৃত প্লেয়ার্স এজেন্ট সৌহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পারিবারিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে গত ২৫ জুলাই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে বিয়ের ছবি নতুন করে ১৭ আগস্টের দিকে সামনে আসে। সৌহাইলা এল তাহিরির মরক্কো ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫৩ বছর বয়সী রবার্তো কার্লোস নিজে কিংবা তার কোনো আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা মুখপাত্র এখন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেননি।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমগুলোর কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি মূলত তুরস্কের এমপি আলী শাহিন এবং ব্রাজিলের ইসলামিক স্কলার শেখ জিহাদ হামাদার দাবির ভিত্তিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে রবার্তো কার্লোস নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত খবরটিকে শতভাগ নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফুটবল ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্যের মালিক রবার্তো কার্লোস। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ছিলেন রানার্সআপ দলের সদস্য। ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগাসহ অসংখ্য শিরোপা।
বিশেষ করে তার শক্তিশালী ও বাঁকানো ফ্রি-কিক ফুটবল বিশ্বে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। এবার সেই কিংবদন্তি ফুটবলারের ইসলাম গ্রহণের খবর ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
মতামত