মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মিনারাই গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন এবং বসতঘর সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুকুরে মাছ নিধনের অভিযোগে কমলগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মিনারাই গ্রামের আব্দুল গণির স্ত্রী রুপজান বেগমের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল বারী,আবরুজ মিয়া ও আল-আমীনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। রুপজান বেগমের পরিবারের দাবি, তারা বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি কিনে নামজারি ও খারিজ করে ভোগদখলে রয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, ওই জমিতে শরিকানা মালিকদের অংশ রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রুপজান বেগমের পরিবারের অভিযোগ, তাদের বসতঘরটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বাধা দিচ্ছেন বলে তাদের দাবি। এ কারণে পরিবারের নয় সদস্যকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
রুপজান বেগম বলেন,“আমরা প্রকৃত অংশীদারের কাছ থেকে ২৪ শতক ৬০ শতাংশ জমি কিনেছি। পরে নামজারি ও খারিজও করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জমিতে বসবাস করছি। ঘরটি অনেক পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কারকাজ শুরু করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে রুপজান বেগমের ছেলে আব্দুল নসাদের অভিযোগ,গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় আব্দুল মন্নাফ,আব্দুল বারীসহ চারজনকে আসামি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল নসাদ বলেন,“জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পুকুরের মাছ নিধনের ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করেছি। একই সঙ্গে ঘর সংস্কারের কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।”
তবে আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন,পুকুরে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তাদের জানা নেই। তাদের দাবি,ওই বাড়ির জমিতে শরিকানা মালিকদের অংশ রয়েছে। শরিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে মাছ নিধনের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান শনিবার (০৩ অক্টোবর) বলেন,“জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি। বসতঘর সংস্কারের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কথা শুনেছি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই রনি তালুকদার বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়টি রুপজান বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ পেয়েছেন।
জমির মালিকানা ও পুকুরে মাছ নিধনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মতামত