সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বাচ্চু রাজাকারের আপিলের শুনানি চলছে


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বাচ্চু রাজাকারের আপিলের শুনানি চলছে
মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বাচ্চু রাজাকারের আপিলের শুনানি চলছে

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের (বাচ্চু রাজাকার) করা আপিল শুনানি চলছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়।

গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিল শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে আপিল বিভাগ।

আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই ওই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা (আপিল করতে দেরি হওয়ার জন্য মার্জনা) চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্তসংবলিত) ছিল না, ওরা (আপিলকারী পক্ষ) কপিও দেয়নি। সে কারণে আমরা মুলতবি চেয়েছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে।’

এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যদণ্ড দিয়ে ১৩ বছর আগে রায় (২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি) দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর আসে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। 

এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। 

বিষয় : রাজাকার আপিল শুনানি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বাচ্চু রাজাকারের আপিলের শুনানি চলছে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের (বাচ্চু রাজাকার) করা আপিল শুনানি চলছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়।

গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিল শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে আপিল বিভাগ।

আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই ওই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা (আপিল করতে দেরি হওয়ার জন্য মার্জনা) চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্তসংবলিত) ছিল না, ওরা (আপিলকারী পক্ষ) কপিও দেয়নি। সে কারণে আমরা মুলতবি চেয়েছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে।’

এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যদণ্ড দিয়ে ১৩ বছর আগে রায় (২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি) দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর আসে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। 

এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream